মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
কটামণি, ১৫ সেপ্টেম্বর : সিদ্ধিদাতা গণেশের মূর্তি বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে উৎসবের আবহে মুখরিত হয়ে উঠল বাজারিছড়া। ঢাক-ঢোল, ডিজের তালে নৃত্য, আবিরের রঙের ছটা এবং আলোকসজ্জায় গোটা এলাকা পরিণত হয় উৎসব প্রাঙ্গণে। কয়েক শতাধিক ভক্ত ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে বিসর্জন শোভাযাত্রা হয়ে ওঠে মিলনোৎসব।
এবছর প্রথমবারের মতো কালাছড়া নব যুবক সংঘের উদ্যোগে গণেশ চতুর্থী উৎসবের আয়োজন করা হয়। রবিবার ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পূজার সূচনা হয়। সোমবার বিশেষ পূজার্চনার পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বৃহত্তর বাজারিছড়া এলাকার শিশু-কিশোর ও কিশোরীরা অংশ নেয়। তাদের নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ শুরু হয় বিসর্জনের প্রস্তুতি। সুসজ্জিত গাড়িতে গণেশের মূর্তি স্থাপন করে শুরু হয় শোভাযাত্রা। ঢাক-ঢোল ও ডিজের তালে ভক্তরা নৃত্যে মেতে ওঠেন। চলে আবির খেলা। শোভাযাত্রাটি বাজারিছড়ার তেমাথায় স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির সামনে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর বাজারিছড়া, কালাছড়া ও লালমাটি এলাকা পরিক্রমা করে কালাছড়া শিববাড়ি সংলগ্ন লঙ্গাই নদীর বিসর্জন ঘাটে পৌঁছায়।
শোভাযাত্রার পথে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ তা উপভোগ করেন। ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘গণপতি বাপ্পা মোরিয়া, মঙ্গলমূর্তি মোরিয়া’ জয়ধ্বনি। বিসর্জন ঘাটে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে গণেশের মূর্তি নদীর জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। আবেগঘন হয়ে ওঠে গোটা পরিবেশ।
বিসর্জন শেষে ভক্তরা মণ্ডপে ফিরে ব্রাহ্মণের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে শান্তির জল গ্রহণ করেন। প্রথমবারের আয়োজন হলেও ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বর্ণাঢ্য বিসর্জন শোভাযাত্রা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভক্তি, সম্প্রীতি ও আনন্দের আবহে গণেশকে বিদায় জানান বাজারিছড়ার মানুষ।



