১৫ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লিগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলি আরাফাত, নিষিদ্ধ যুবলিগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলিগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীসহ তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চারটি করে অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল প্রত্যেক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগের ধরন অনুযায়ী আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশও দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রত্যেক আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এসব সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, পলাতক অবস্থায় কোনো আসামি বক্তব্য দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। একইসঙ্গে, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লিগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি সপ্তম মামলার রায়। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আওয়ামী লিগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।



