বরাক তরঙ্গ, ১৪ সেপ্টেম্বর : এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য দেখলেন দেশবাসী। চাঁদের সরু বাঁকা অংশ (Crescent Moon) এবং তার ওপরে একটি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। মূলত সূর্যাস্তের সময় চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শুক্রগ্রহ ছিল। ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে চাঁদ সরাসরি শুক্রের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে। ১৩ সেপ্টেম্বর সূর্যাস্তের সময় পশ্চিম আকাশে তাকালে দেখা যায় উজ্জ্বল শুক্রগ্রহকে। সূক্ষ্ম কাস্তে আকৃতির চাঁদের খুব কাছেই উজ্জ্বল বিন্দুর মতো জ্বলতে থাকে শুক্র। আজ, ১৪ সেপ্টেম্বর, এই মহাজাগতিক দৃশ্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠে।
১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রকে আকাশে উজ্জ্বল ‘সন্ধ্যাতারা’র মতো দেখা যায়। প্রায় ৯ শতাংশ আলোকিত ক্রমবর্ধমান চাঁদ থেকে শুক্রের দূরত্ব থাকবে ৫ ডিগ্রির কিছু বেশি। হাত বাড়িয়ে তিনটি মাঝের আঙুল পাশাপাশি ধরলে যতটা অংশ ঢাকা পড়ে, আকাশে এই দূরত্বটিও মোটামুটি ততটাই।
শুক্রগ্রহের আকার ও পাথুরে গঠনের সঙ্গে পৃথিবীর বেশ কিছু মিল থাকায় একে অনেক সময় ‘পৃথিবীর যমজ’ বলা হয়। সন্ধ্যার আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল থাকায় শুক্র সহজেই নজরে আসে। তবে অল্প আলোয় থাকা সরু চাঁদকে দেখা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। অস্তগামী সূর্যের আলোয় চাঁদের ক্ষীণ অংশ অনেকটাই আড়ালে চলে যেতে পারে। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ও শুক্র দিগন্তের ১০ ডিগ্রিরও কম উচ্চতায় অবস্থান করছিল। ফলে সূর্যাস্তের এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই দুটিই দিগন্তের নিচে চলে যায়। তাই পশ্চিম আকাশে বাধাহীন দৃষ্টিসীমা রয়েছে এমন জায়গা থেকে সূর্যাস্তের পরপরই তাকালে দৃশ্যটি ভালোভাবে দেখা সম্ভব ছিল।
১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বরের এই মহাজাগতিক অবস্থান নিয়ে কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই। পৃথিবী থেকে পর্যবেক্ষণ করলে চাঁদ ও শুক্রকে কাছাকাছি মনে হলেও বাস্তবে তাদের মধ্যে দূরত্ব কয়েক মিলিয়ন কিলোমিটার। চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় তার অবস্থান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তাকে উজ্জ্বল গ্রহ বা নক্ষত্রের কাছাকাছি দেখা যায়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের আকাশের কাছাকাছি অবস্থানকে ‘সেলেস্টিয়াল কনজাংশন’ বা মহাজাগতিক সংযোগ বলা হয়। সেপ্টেম্বরের এই সময়ে সন্ধ্যার পশ্চিম আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল শুক্রগ্রহ দেখা যাওয়ার কথাও জানিয়েছে নাসা।
সূত্র : space.com



