শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১২ সেপ্টেম্বর : ক্রীড়া চর্চা ও সুস্থ জীবন যাপনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে শনিবার বিকেলে কাছাড় জেলার কাটিগড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো “উইনার্স টাইকুন্ড স্পোর্টস অ্যান্ড ফিটনেস অ্যাকাডেমি”। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো এবং ফিটনেস সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই অ্যাকাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
কাটিগড়ার সিদ্ধিপুর স্থিত হ্যাপি ভ্যালি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। এছাড়াও অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এপি সভানেত্রী বাবলি নাথ, হ্যাপি ভ্যালি স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি ফয়জুর আলম চৌধুরী, ন্যাশনাল রেফারি পায়েল দাস এবং সাংবাদিক শমীন্দ্র পাল। অতিথিদের উপস্থিতিতে একাডেমির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পাশাপাশি ক্রীড়া ও ফিটনেসের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
উইনার্স টাইকুন্ড স্পোর্টস অ্যান্ড ফিটনেস অ্যাকাডেমির উদ্বোধন কাটিগড়ায়
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি নির্ভর জীবনযাত্রার কারণে শিশু-কিশোরদের মধ্যে খেলাধুলা ও নিয়মিত শরীরচর্চার প্রবণতা কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, একটি সুস্থ, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী সমাজ গড়ে তুলতে হলে ছোটবেলা থেকেই শারীরিক অনুশীলনের অভ্যাস গড়ে তোলা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, টাইকুন্ড কেবল একটি মার্শাল আর্ট নয়, এটি আত্মরক্ষার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলার এক কার্যকর মাধ্যম। শিশু থেকে বয়স্ক-সকলেরই নিয়মিত শরীর চর্চার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশ ঘটানো উচিত। এধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি উইনার্স টাইকুন্ড স্পোর্টস অ্যান্ড ফিটনেস একাডেমির উত্তরোত্তর সাফল্য ও শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন এবং এলাকার মানুষকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অ্যাকাডেমির হেড কোচ শ্যামল শর্মা বলেন, সকল শ্রেণির মানুষের কাছে টাইকুন্ড ও ফিটনেস প্রশিক্ষণ সহজলভ্য করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, একদম ন্যূনতম ভর্তি ফি ও মাসিক ফিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে আর্থিক সামর্থ্যের কারণে কেউ পিছিয়ে না পড়েন। তিনি আরও জানান, বিশেষ করে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারগুলির জন্য থাকবে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা। তাঁর মতে, প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে অর্থ যেন কোনো বাধা না হয়, সেটিই একাডেমির অন্যতম অঙ্গীকার। শিশুদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করাই অ্যাকাডেমির প্রধান লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা অ্যাকাডেমির এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং কাটিগড়ায় ক্রীড়া সংস্কৃতির বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উপস্থিত ক্রীড়াপ্রেমী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।



