কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ১২ সেপ্টেম্বর : নিরাপত্তার অভাবে ফের মণিপুরগামী পণ্যবাহী লরি আটকে পড়েছে। ফুলেরতল থেকে জিরিঘাট পর্যন্ত ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে সহস্রাধিক মালবোঝাই লরি দীর্ঘদিন ধরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গত প্রায় ৮-১০ দিন ধরে রাস্তায় আটকে থাকা লরিগুলি নিরাপত্তার কারণে ইম্ফলের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারছে না। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ইম্ফলের দিকে যাওয়ার পথে মণিপুরের নোনে এলাকায় লরি চালকদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর চালকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জিরিবাম থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর এসকর্ট নিয়ে লরিগুলি মণিপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পথে চালকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে জিরিঘাট এলাকায় আটকে থাকা মণিপুরগামী পণ্যবাহী লরির চালকরা জিরিঘাট থানার সামনে সমবেত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চালকদের বক্তব্য, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করা হলে তাঁরা আর মালবোঝাই লরি নিয়ে ইম্ফলের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন না।
চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ সড়কের উপর অবস্থান করতে গিয়ে তাঁদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পানীয় জলের অভাব, শৌচালয়ের সমস্যা এবং খাবারের সংকটের মধ্যেই দিনের পর দিন রাস্তায় থাকতে হচ্ছে তাঁদের। এর পাশাপাশি পথে মারধরের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চালকদের দাবি, তাঁরাও মানুষ এবং নিরাপদে যাতায়াতের অধিকার তাঁদের রয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মণিপুরে পণ্য নিয়ে যাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তাঁরা। নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলেই কেবল ফের রওনা হবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আটকে পড়া চালকরা।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই মণিপুরে গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিতভাবে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় পণ্য পরিবহণেও ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। এমনকি নিরাপত্তা বাহিনীর এসকর্ট থাকা সত্ত্বেও লরি নিয়ে মণিপুরে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ফের একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় শিলচর-জিরিঘাট জাতীয় সড়কে হাজার হাজার পণ্যবাহী লরি আটকে রয়েছে।
এ দিকে, বৃহস্পতিবার থেকে ছয় নাগা ভাইয়ের অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে মণিপুরের নোনি জেলায় ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলিয়াংগ্রং নাগা মহিলাদের মধ্যে পাঁচজনকে CoBRA বাহিনী আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ছয় নাগা যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।



