কথামতোই ১০ দিনে সারল জামিরায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ, ফের দেশের সঙ্গে জুড়ল মিজোরাম

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১২ সেপ্টেম্বর : টানা বৃষ্টিতে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মাত্র ১০ দিনের মধ্যে মেরামত করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (এনএফআর)। শনিবার কাটাখাল–ভৈরবী রেলশাখার জামিরা–বৈরবী অংশে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় দেশের বাকি অংশের সঙ্গে মিজোরামের রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে।

এনএফআরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ ৫৫৬৬৯ শিলচর–সাইরাং যাত্রিবাহী ট্রেনটি মেরামত হওয়া অংশ অতিক্রম করে। রেলপথটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরে এটিই ছিল ওই অংশ দিয়ে চলা প্রথম যাত্রিবাহী ট্রেন।

শিলচর রেলস্টেশনের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিক্রমজিৎ নাথ বলেন, “যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রেলপথটি মেরামত করা হয়েছে। শিলচর–সাইরাং এবং শিলচর–বৈরবী রুটে ট্রেন চলাচল ফের শুরু হয়েছে।”

এনএফআরের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় একটি ইঞ্জিনের সঙ্গে একটি কামরা নিয়ে মেরামত হওয়া অংশে পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেন চালানো হয়। সেই পরীক্ষা সফল হওয়ার পরেই যাত্রিবাহী ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। রবিবার থেকে কাটাখাল–বৈরবী শাখায় নিয়মিত পরিষেবা ধাপে ধাপে স্বাভাবিক করা হবে। সাইরাংয়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য প্রান্তের সংযোগকারী ট্রেনগুলিও শীঘ্রই চালু হবে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রবল বৃষ্টির জেরে রেললাইনের পাশে মাটির ক্ষয় শুরু হয়। তার ফলে প্রায় ৭০ মিটার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। লাইনের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ মিটার পর্যন্ত মাটি সরে যাওয়ায় ওই শাখায় সাময়িক ভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।

কপিঞ্জল জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া, আলগা মাটি এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর সড়কপথ অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় মেরামতের কাজ যথেষ্ট কঠিন ছিল। তা সত্ত্বেও দ্রুত ঘটনাস্থলে ইঞ্জিনিয়ার, রেলকর্মী, ভারি যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী পাঠানো হয়।

রেলকর্মীরা দিনরাত কাজ করে ধসপ্রবণ অংশটি স্থিতিশীল করেন। নতুন করে রেলপথের ভিত তৈরি করে লাইনটিকে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়। টানা ২৪ ঘণ্টা কাজ চলার ফলেই ১০ দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই রেল সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে এনএফআর জানিয়েছে।

রেল চলাচল বন্ধ থাকায় একাধিক ট্রেন বাতিল, যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত কিংবা মাঝপথ থেকে চালু করতে হয়েছিল। ফলে মিজোরাম ও দেশের অন্যান্য প্রান্তের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সমস্যায় পড়েন। অনেককেই বাকি পথ সড়কপথে যেতে হয়।

পরিষেবা চালু হওয়ায় মিজোরাম এবং অসমের বরাক উপত্যকার যাত্রীরা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে এই ঘটনা বর্ষার সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলের রেল পরিকাঠামো যে ধস এবং ভূমিক্ষয়ের সামনে কতটা অসহায়, তা আরও এক বার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

যাত্রা শুরুর আগে আইআরসিটিসির ওয়েবসাইট এবং এনএফআরের সমাজমাধ্যমে ট্রেনের সময়সূচি ও স্টপেজ যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *