আবগারি বিভাগের এক কর্মীকে মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগ ধৃতদের বয়ানে, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১০ সেপ্টেম্বর : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কাছাড় জেলার কাটিগড়ার কুশিয়ারকুল জিপি এলাকায় কথিত মদ ও মাদক কারবারকে ঘিরে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। অবৈধ নেশার কারবারে এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরিস্থিতির অবসান ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করার দাবিতে বৃহস্পতিবার এলাকার একদল মহিলা কাটিগড়া সার্কল কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কাছাড়ের জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে একটি স্মারকপত্র প্রদান করেন।
স্মারকপত্রে কুশিয়ারকুল জিপি এলাকায় কথিত অবৈধ মদ ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর অভিযান চালানো এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি এলাকায় মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকারও দাবি তোলেন তাঁরা।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অবৈধ মদ বিক্রির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযান চালায় গুমড়া পুলিশ। গুমড়া, কুশিয়ারকুল ও দিগরখাল বাজারের বিভিন্ন দোকানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। অভিযানে মদ বিক্রির অভিযোগে জয়কুমার দাস ও বাপ্পাজিৎ দে নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, গুমড়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রণব মিলির নেতৃত্বে পুলিশের দল বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালায়। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে মদ বিক্রি চলছে – এমন অভিযোগ পাওয়ার পরই এই অভিযান বলে জানা গেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজনের বয়ানে আবগারি বিভাগের গোয়ালা পদবীর এক কর্মীকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দেওয়ার বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এদিকে, স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আটক বাপ্পাজিৎ দে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্কুলের আশপাশে অবৈধভাবে মদ বিক্রি করে আসছিলেন। স্কুলের কাছাকাছি এমন কার্যকলাপ চললেও শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গুমড়া পুলিশের রাতের অভিযানের পর এলাকায় অবৈধ মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কুশিয়ারকুলের মহিলাদের স্মারকপত্র এবং পুলিশের অভিযানের পর নেশার অবৈধ কারবার বন্ধে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী।



