১০ সেপ্টেম্বর : স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তার পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার হু-র প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক দুর্নীতির তদন্তের (Fraud Charges) জেরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সায়মাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছিল। পদত্যাগপত্রে তিনি নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর পাশাপাশি নিজের অসহনীয় আর্থিক সংকটের কথাও উল্লেখ করেছেন।
হু সূত্রে খবর, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সায়মাকে পাঁচ বছরের মেয়াদে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তার পদে নিযুক্ত করে হু। ওই বছরের অগাস্টে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সায়মার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জানা গিয়েছে, চিন সফরে আর্থিক দুর্নীতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে অবৈধভাবে জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও সায়মা শুরু থেকেই এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে আসছেন। পদত্যাগপত্রে সায়মা উল্লেখ করেছেন, হু-তে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমিটি আইনসম্মতভাবেই অধিগ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা তথা শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি ওই জমির মালিক হওয়ার অধিকার পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন সায়মা।
উল্লেখ্য, গত বছর জুলাই মাস থেকেই সায়মাকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠিয়েছিল হু। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করার পরিকল্পনাও নিচ্ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পদত্যাগপত্রে সায়মা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ এক বছর ধরে তাঁকে বেতন বা সাম্মানিক ছাড়া ছুটিতে রাখা হয়েছে, যা তাঁর পক্ষে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এর জেরে হু প্রধানের নেতৃত্বের ওপর থেকে তিনি আস্থা হারিয়েছেন বলে জানান। প্রসঙ্গত, এই আঞ্চলিক অধিকর্তার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁর পদত্যাগের পর নতুন নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসেই নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।




