ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন মোদি-জিনপিং!

Spread the news

১০ সেপ্টেম্বর : ২০২০ সালের রক্তক্ষয়ী গালওয়ান উপত্যকা সংঘাতের পর এই প্রথম ভারতের মাটিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।  আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে শুরু হতে চলা ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক শীতলতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের অবনতির পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এই সম্ভাব্য বৈঠককে একটি ইতিবাচক পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কথা চিনের প্রেসিডেন্টের। ভারতের আয়োজনে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত সাত বছরের মধ্যে এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর এবং সীমান্ত সংকটের পর এই প্রথম তিনি ভারতে আসছেন। যদিও এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা সফর নিয়ে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর সেনা প্রত্যাহারের জেরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা বরফ গলেছে। সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল বেজিং সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমান্ত বিষয়ক আলোচনাও হয়েছে। তবে সম্পর্কের এই আংশিক উন্নতির পরেও সীমান্ত বিরোধ এবং অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে টানাপোড়েন এখনও পুরোপুরি কাটেনি। চিন সমগ্র অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করলেও ভারত তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া সম্প্রতি অরুণাচলের বেশ কিছু এলাকার চিনা নামকরণ নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জমানার শুল্ক নীতি এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম।

সম্প্রতি কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে মোদি ও জিনপিং একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাঁরা সৌজন্যমূলক করমর্দনও করেন তবে কোনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত শান্ত রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, ব্রিকস-এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে বেজিংয়ের কাছেও এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে এবারের ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে এই সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে বিশেষ নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *