বরাক তরঙ্গ, ১০ সেপ্টেম্বর : বাংলা সাহিত্য-সভা অসমের শিলচর শাখার উদ্যোগে বুধবার সন্ধ্যায় ভারতরত্ন তথা সুধাকণ্ঠ ড. ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উদযাপন করা হয়। শিলচর-হাইলাকান্দি রোডের বিশিষ্ট চিকিৎসক ভাস্কর নাথের বাসভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভূপেন হাজারিকার জীবন, কর্ম ও সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সুধাকণ্ঠ ভূপেন হাজরিকার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে। পরে তাঁর জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন নীলাঞ্জন পাল, সুমিতা ভট্টাচার্য, পঙ্কজ নাথ, অর্কদ্যুতি নাথ, দেবশ্রী নাথ, বিদিপ্তা দেব ও নবনীতা দে। গিটারে সঙ্গত করেন অরুণাংশু নাথ এবং তবলায় ছিলেন রাজীব অধিকারী। ভূপেন হাজরিকার লেখা কবিতা পাঠ করেন নিবেদিতা চক্রবর্তী।

অনুষ্ঠানে বাংলা সাহিত্য-সভা অসমের শিলচর শাখার সভাপতি বিদ্যুজ্যোতি পুরকায়স্থ বলেন, ভূপেন হাজারিকার গানে শোষিত মানুষের কথা এবং মানবপ্রেমের গভীর বার্তা ফুটে উঠেছে। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মানবতার যে আবেদন রয়েছে, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। অসম ও বাংলার সংস্কৃতিকে তিনি সংগীতের মাধ্যমে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সহ-সভাপতি তথা বিশিষ্ট লেখক দীপঙ্কর ঘোষ বলেন, ভূপেন হাজরিকা শুধু ভারতের নয়, সমগ্র বিশ্বের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। সংগীত, কবিতা, চলচ্চিত্র ও লেখনীর মাধ্যমে তিনি মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে তুলে ধরেছেন। গায়ক, সুরকার, গীতিকার, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র ও সংগীত পরিচালক এবং লেখক হিসেবে তিনি বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। সংস্কৃতির পাশাপাশি রাজনীতির ক্ষেত্রেও তাঁর পদচারণা ছিল, তবে মানুষের ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাধারণ সম্পাদিকা নিবেদিতা চক্রবর্তী বলেন, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ভূপেন হাজারিকা তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে মানবতার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। ধর্ম, ভাষা, জাতি ও আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে সংগীতের আবেগ দিয়ে তিনি মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়েছেন। ধর্মীয় বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ ভারতে পারস্পরিক সম্মান, সহানুভূতি ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা সাহিত্য-সভা অসমের রাজ্য সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক তথা শিলচরের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী সন্দীপন দত্ত পুরকায়স্থ।



