৯ সেপ্টেম্বর : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর পাল্টা জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল আজরাক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডানের দাবি, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করা হয়েছে। হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে দু’দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তবে মার্কিন নৌযানটি হামলা এড়িয়ে যায় এবং আঞ্চলিক জলসীমায় টহল অব্যাহত রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
এরপরই ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘কাভিজ’, ‘চারমিনার’, ‘হরাইজন-১’ ও ‘রিয়েস্কো’ নামের চারটি জাহাজ ওমান উপসাগরে এবং ‘দেরিয়া’ নামের অপর একটি জাহাজ খার্গ দ্বীপের কাছে অবস্থান করছিল। হামলার আগে জাহাজগুলোর কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন বাহিনীর অভিযোগ, ওই জাহাজগুলো ইরানের একটি বড় গোপন তেল বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়ন করা হয় বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। তবে মার্কিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে এবং জাহাজটির কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ওমান উপসাগরের জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া যায়। আইআরজিসির দাবি, আরও কয়েকটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে।
এরপর জর্ডানে অবস্থিত আল আজরাক মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করা হয় এবং বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে আম্মান। আইআরজিসির দাবি, আল আজরাক ঘাঁটিতে হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি মার্কিন নৌবিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর দাবিও করেছে তারা। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরান আরও সতর্ক করে দিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে অবস্থানরত তেলবাহী জাহাজগুলোও তাদের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলেও। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছে, যা গত ১০ দিনের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা অব্যাহত রাখলে তেহরানের তেলবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে মার্কিন অভিযানও চলবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত স্থলভাগের পাশাপাশি উপসাগরীয় জলসীমাতেও আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



