বন্যার জলে প্লাবিত সপ্তগ্রাম-আরজানপুর, ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার দাবি কৃষক সভার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৮ সেপ্টেম্বর : পার্শ্ববর্তী রাজ্য মিজোরামে প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে রুকনী নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে কাছাড়ের সপ্তগ্রাম জিপির পানি সাগর নালা দিয়ে জল ঢুকে পড়েছে। এর ফলে সপ্তগ্রাম ও আরজানপুর গ্রামের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়ে বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ও সদ্য রোপণ করা ধানের ক্ষেত জলের তলায় চলে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ১৯টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ১৩৯৪ নম্বর আরজানপুর এলপি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, বাড়িঘরে পলি জমে কাদায় পরিণত হওয়ায় সেগুলি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হলেও স্থানীয় প্রশাসনের তরফে স্কুল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের আরও অভিযোগ, কৃষিজমিতে সদ্য রোপণ করা ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখনও সরকারি ভাবে তার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তারও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্তদের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে গত রবিবার সর্বভারতীয় কৃষক সভার কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি রেজামন্দ আলী বড়ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার খোঁজখবর নেন।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইসলাম উদ্দিন, আব্দুল ওয়াহিদ লস্কর, সিদ্দেক আলি বড়ভূইয়া, আবিদুর রহমান, মনির উদ্দিন বড়ভূঁইয়া প্রমুখ। পরিদর্শন শেষে রেজামন্দ আলি বড়ভূইয়া সরকারের কাছে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানান। পাশাপাশি পাটোয়ারী পাঠিয়ে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির আংশিক ও পূর্ণ ক্ষতির তালিকা তৈরি, নষ্ট হয়ে যাওয়া ধানের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে হালি চারা বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সাহায্য ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে গবাদি পশুর চিকিৎসা ও গোখাদ্য সরবরাহেরও দাবি জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *