বরাক তরঙ্গ, ৭ সেপ্টেম্বর : প্রয়াত শিক্ষিকা মধুমিতা পালের স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করল হাইলাকান্দি রোটারি ক্লাব। রবিবার কাটলিছড়ার সিনিয়র সিটিজেন আবাস তথা বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে আবাসিকদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি তাঁদের জন্য মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন এবং নতুন বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
হাইলাকান্দি রোটারি ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি অসিত কুমার পালের প্রয়াত সহধর্মিণী তথা শিক্ষিকা মধুমিতা পালের এদিন ছিল একাদশতম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও রোটারি ক্লাবের সদস্য-সদস্যারা বৃদ্ধাশ্রমে উপস্থিত হন।
ক্লাব সভাপতি কামাল হোসেন চৌধুরী জানান, মধুমিতা পালের স্মৃতিতে প্রতিবছরই বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর পাশাপাশি তাঁদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এবছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মধ্যাহ্নভোজন ও বস্ত্র বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিন বৃদ্ধাশ্রমের ৩২ জন আবাসিকের সঙ্গে রোটারি ক্লাবের সদস্য-সদস্যারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজনে অংশ নেন। একই সঙ্গে চলে দীর্ঘক্ষণ আলাপচারিতা ও মতবিনিময়। আবাসিকদের সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে সময় কাটানোর এই উদ্যোগে বৃদ্ধাশ্রম চত্বরে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আবাসিকরাও তৃপ্তির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন গ্রহণ করেন।
এদিকে আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মধুমিতা পালের স্মৃতিতে বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়। মহিলাদের শাড়ি এবং পুরুষদের শার্ট প্রদান করা হয়। নতুন বস্ত্র পেয়ে আবাসিকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে।
প্রাক্তন সভাপতি অসিত কুমার পাল বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে রোটারি ক্লাবের সহযোগিতায় গত কয়েক বছর ধরে মধুমিতা পালের স্মৃতিতে বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের সঙ্গে এই বিশেষ দিনটি কাটানোর সুযোগ হয়ে আসছে। আবাসিকদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে এবং তাঁদের জন্য সামান্য কিছু করতে পেরে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

কর্মসূচিতে ক্লাব সভাপতি কামাল হোসেন চৌধুরী, প্রাক্তন সভাপতি অসিত কুমার পাল, শংকর চৌধুরী, কানাইয়া সারদা, বিভাভূষণ চক্রবর্তী, ক্লাব সম্পাদক দীপক দে এবং ডা. নজমুল হক মাঝারভূইয়া উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজেরাও পুরো কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আবাসিকদের সঙ্গে সময় কাটান।
রোটারি ক্লাবের এই উদ্যোগ শুধু একজন প্রয়াত শিক্ষিকার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই নয়, বরং সমাজের প্রবীণ মানুষদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মধুমিতা পালের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে এমন মানবিক কর্মকাণ্ড আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে—এমনই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত রোটারিয়ানরা।



