রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে, বাঁধন ডেভেলাপমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সহযোগিতায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান
আব্দুল হক, সোনাই।
বরাক তরঙ্গ, ৫ সেপ্টেম্বর : শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সোনাইয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক আন্তরিক, মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠান। সোনাই রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এবং বাঁধন ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য মোট ২৪ জন শিক্ষক এবং ১১ জন বিশিষ্ট অতিথিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় সোনাই মাধবচন্দ্র দাস কলেজের উপাধ্যক্ষ তথা বাঁধন ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন লস্করের পৌরোহিত্যে। শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি সমাজে শিক্ষকদের অনন্য ভূমিকা তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপিকা কে. ডি. নেহা। তিনি শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান প্রদান করেন না; তাঁরা শিক্ষার্থীদের জীবনের পথপ্রদর্শক, অনুপ্রেরণার উৎস এবং সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর। এরপর অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য বা নির্যাস বক্তব্য প্রদান করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন লস্কর। তিনি শিক্ষকতার মহান দায়িত্ব, শিক্ষকদের সামাজিক ভূমিকা এবং বর্তমান প্রজন্মকে মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ নির্মাণে শিক্ষকদের অবদান কখনোই অস্বীকার করা যায় না। এরপর শুরু হয় শিক্ষক সম্মাননা পর্ব। একে একে ২৪ জন শিক্ষককে মেমেন্টো, উত্তরীয় ও একটি করে বই দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণের সময় অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন ও আনন্দময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে ছিলেন— ড. আব্দুল বাছিত লস্কর, ড. হামিদা খাতুন, মনসুর আহমেদ বড়ভূইয়া, হুমায়ুন আজাদ লস্কর, ড. মকবুল হোসেন বড়ভূইয়া, ড. রহমত আল, ড. নবেন্দু বণিক, অখিল সূত্রধর, রাজীব কুমার দাস, জুবাইর আহমদ মজুমদার, হোসেন আহমেদ বড়ভূইয়া, আবেদ হোসেন মজুমদার, সাকিরা খানম মজুমদার, আব্দুর রেহিম আহমেদ, সাহানাজ মজুমদার, তাহের আহমেদ লস্কর, পরিমল চন্দ্র দাস, সাবির আহমেদ চৌধুরী, জাহানারা বেগম বড়ভূইয়া সহ অন্যান্য বিশিষ্ট শিক্ষক। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনাইয়ের বিধায়ক আলহাজ আমিনুল হক লস্কর। তাঁর বক্তব্যে তিনি আয়োজক দুই সংগঠনের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড। একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক কর্তব্যও বটে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও অতিথির আসন অলংকৃত করেন অধ্যক্ষ ড. বাহারুল ইসলাম লস্কর, সাবির আহমেদ চৌধুরী, আসরাফ সিদ্দিক চৌধুরী, বদর উদ্দিন মজুমদার, প্রবীর দাস, আব্দুল মজিদ চৌধুরী, পরিমল চন্দ্র দাস, ব্লক অফিসার নজমুল হক লস্কর সহ সোনাই এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সম্মানিত শিক্ষক ও অতিথিদের অনুভূতি প্রকাশ।

শিক্ষকরা তাঁদের বক্তব্যে এই সম্মাননাকে অত্যন্ত আবেগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। তাঁরা বলেন, একজন শিক্ষককে তাঁর কর্মজীবন ও সামাজিক অবদানের জন্য সম্মানিত করা মানে গোটা শিক্ষক সমাজকে সম্মানিত করা। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষকদের আরও উৎসাহিত করবে এবং সমাজের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব পালনে নতুন প্রেরণা জোগাবে। যেসব শিক্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাকিরা খানম মজুমদার, আবেদ হোসেন মজুমদার, তাহের আহমেদ লস্কর, ড. নবেন্দু বণিক, জাহানারা বেগম লস্কর, সাহারুল ইসলাম লস্কর সহ আরও অনেকে। তাঁরা শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং সমাজে শিক্ষকদের দায়িত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাও তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আয়োজকদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশেষভাবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন লস্কর, সাবির আহমেদ চৌধুরী এবং ব্লক অফিসার নজমুল হক লস্কর। তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষা, সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং শিক্ষকদের দায়িত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। বক্তব্য ও সম্মাননা পর্বের পাশাপাশি পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের আবহ। শিক্ষক ও অতিথিদের সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে আয়োজক সংগঠন দুটি যে সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে, তা উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়ায়। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন লস্কর। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি, সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, অতিথিবৃন্দ, আয়োজক সংগঠনের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি ভবিষ্যতেও শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানিয়ে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। গোটা অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন ইসানা আক্তার লস্কর। তাঁর সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্ব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষক দিবসের এই আয়োজন শুধু সম্মাননা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল শিক্ষক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের এক অনন্য প্রয়াস। সোনাই রেফারি অ্যাসোসিয়েশন ও বাঁধন ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা উপস্থিত সকলের।



