কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ৫ সেপ্টেম্বর : ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান ও শিক্ষক সম্মাননার মাধ্যমে শিক্ষক দিবস পালন করল বাঁশকান্দির পাইওনিয়ার ইংলিশ স্কুল। প্রতিবছরের মতো এবারও একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও একজন কর্মরত শিক্ষককে তাঁদের ব্যতিক্রমী অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির জনপ্রিয় নৃত্য-গীত পরিবেশন করে এবং তাদের শিক্ষকদের সম্মানার জন্য নানা আয়োজন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে দশম শ্রেণির ছাত্রী নওশীন আঞ্জুম লস্কর ও নবম শ্রেণির ছাত্রী খাদিজা বেগম।
এবার মওলানা মদারিস আলি লস্কর লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে বাঁশকান্দি এমই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কামাল উদ্দিন মজুমদারকে। কামু মিয়া লস্কর অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স প্রদান করা হয়েছে ৪২০ নম্বর নন্দপুর এলপি স্কুলের শিক্ষক বিসন দাসকে। কামাল উদ্দিন মজুমদার ১৯৮২ সালে বাঁশকান্দি এমই মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ভেঞ্চার স্কুলটিতে যোগদান করে তিনি আরবি ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করতেন। ২০১৩ সালে স্কুলটি অনুদান প্রাপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে এর নামকরণ হয় বাঁশকান্দি এমই স্কুল। ২০২২ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন দীর্ঘ ৪০ বছর তিনি একদিনও স্কুলে অনুপস্থিত থাকেননি। বিশন দাসও অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে এলাকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করে চলেছেন।
মওলানা মদরিস আলি ছিলেন বাঁশকান্দির বাসিন্দা। তিনি ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মুলতান জেলে ৬ মাসের জন্য কারাবাস বরণ করেন। কামু মিয়া লস্কর ছিলেন একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। ব্রিটিশ আমলে কাছাড়ের বিভিন্ন এলাকায় দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন এই কিংবদন্তি শিক্ষক। তাঁদের স্মৃতি রক্ষার জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও একজন কর্মরত শিক্ষকককে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর রেবিতা দেবী ,নৃত্য শিক্ষিকা পায়েল দাশগুপ্ত ও উদযাপন কমিটির সভাপতি জাবেদ আহমদ মজুমদার , শর্মিলি বেগম ও সম্পাদক নাহিদ পারভেজ সহ ছাত্রছাত্রীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।



