বরাক তরঙ্গ, ৩ সেপ্টেম্বর : ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করে তুলতে নাগরিক, শিল্পোদ্যোগী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং সংবাদমাধ্যমকে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার আহ্বান জানালেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল রানা প্রতাপ কলিতা। বুধবার সন্ধ্যায় গুয়াহাটিতে ‘অ্যাক্ট ইস্ট নীতি: নাগরিকের ভূমিকা ও ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক এক চিন্তন বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সীমান্ত চেতনা মঞ্চ, পূর্বোত্তরের উদ্যোগে বৈঠকটির আয়োজন করা হয়।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলির অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক সেতু হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব______
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কলিতা বলেন, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অধীনে নির্ধারিত বৃহৎ লক্ষ্যগুলিকে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে রূপান্তর করতে হবে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থা, অর্থের সংস্থান এবং স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা জরুরি। পাশাপাশি নির্ধারিত লক্ষ্য ও অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রকল্পগুলির নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে কোনও প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে শুধু পরিকল্পনা বা অনুমোদনের স্তরেই আটকে না থাকে।
বৈঠকে অসম সরকারের পর্যটন বিভাগের উপদেষ্টা পার্থ পি দাস বলেন, সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করে থাকতে পারে না। যোগাযোগ, বাণিজ্য, দক্ষতা বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক সংযোগ—এই চারটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের পক্ষে মত দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সড়ক, রেল, অভ্যন্তরীণ জলপথ, বিমান ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি উন্নত পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা, পর্যটনের প্রসার, উদ্যোগপতিত্ব এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।

যুবসমাজ ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে যুব মিডিয়া মুখপাত্র দেবজিৎ গোস্বামী বলেন, ১৯৯১ সালে ‘লুক ইস্ট’ নীতি চালুর পর ২০১৪ সালে তা ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিতে রূপান্তরিত হওয়া পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চল নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এখন নীতির বাস্তবায়ন আরও দৃশ্যমান ও পরিমাপযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে আরও স্বচ্ছতা এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় অংশীদারদের অধিকতর অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সেতু হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বৈঠকে। এতে অসমের প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিচালক প্রদীপ কুমার, প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিচালক পল্লব ভট্টাচার্য, অসম বিধানসভার প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ নোমল মমিন, উপ-মহাপ্রবন্ধক মনোরঞ্জন দাস-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সীমান্ত চেতনা মঞ্চ, পূর্বোত্তরের জাতীয় সমন্বয়ক প্রদীপ বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত ও উন্নয়নমূলক ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনটি জ্ঞানভিত্তিক জনঅংশগ্রহণ এবং গঠনমূলক আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। বৈঠকের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সীমান্ত চেতনা মঞ্চ, পূর্বোত্তরের কার্যনির্বাহী সদস্য সঞ্জয় আদিত্য সিং।



