নেপাল : জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে ৯৩ শ্রমিকের মিলছে না কোনও সন্ধান

Spread the news

১ সেপ্টেম্বর : নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর রসুয়া জেলার রসুয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়ে থাকা ৯৩ শ্রমিকের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতরে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করেও নিখোঁজ শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি। সোমবার নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেপালি সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন উদ্ধারকারী দল রসুয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে তল্লাশি চালায়। পরে থার্মাল ড্রোনের সাহায্যে টানেলের বিভিন্ন অংশে অনুসন্ধান করা হয়। তবে কোথাও আটকে থাকা শ্রমিকদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ভোতে কোশি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর শ্রমিকেরা টানেলের শেষ প্রান্তে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। সেই সম্ভাবনা থেকেই সেনাবাহিনী, প্রকৌশলী এবং ড্রোন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও ড্রোনের মাধ্যমে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশি অভিযান শেষে উদ্ধারকারী দল রসুয়া জেলার ধুনচেতে ফিরে যায়। তবে টানেলের ভেতরে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ)। রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বহু শ্রমিক ও প্রকৌশলীর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন)-এর তথ্য অনুযায়ী, রসুয়া ও নুয়াকোটের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৮৯৭ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে শত শত মানুষকে জীবিত উদ্ধার করেছে। আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্প এলাকা থেকে ২৫৪ জন এবং লাংটাং খোলা প্রকল্প এলাকা থেকে আরও ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়। এই দুর্যোগে নেপালে ৯০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে রসুয়া ও নুয়াকোটসহ একাধিক জেলার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। টানেলের ভেতরে জমে থাকা কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে থাকা শ্রমিকদের সন্ধান করাই এখন উদ্ধারকারীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *