বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট : নিলামবাজার এপিডিসিএল সাব-ডিভিশনের অধীন লাতু, মহিষাশন, আম্বরখানা, চালিয়াদি, দাসগ্রাম, বালিয়া, কালিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করল অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন (AAECA)-এর করিমগঞ্জ জেলা কমিটি। সোমবার সংগঠনের পক্ষ থেকে নিলামবাজার সাব-ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেনের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সংগঠনের অভিযোগ, লাতু, মহিষাশন, আম্বরখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার ডিজিটাল মিটার প্রায় দেড় বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। মিটার পরিবর্তন না করে গ্রাহকদের অতিরিক্ত ও কথিত ‘এভারেজ বিল’ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে মাসিক স্বাভাবিক বিল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে হওয়ার কথা, সেখানে ১,২০০, ২,০০০ এমনকি ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বিল পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। মিটার রিডার সরেজমিনে না গিয়েও মোবাইলে মনগড়া বিলের বার্তা পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
এছাড়া আগে নোটিশ বা সতর্কবার্তা ছাড়াই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ আইন, ২০০৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও আগাম নোটিশ ছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবি জানিয়েছে AAECA।

স্মারকলিপিতে জোরপূর্বক প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানোর বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, পুরনো অকেজো মিটার মেরামত বা পরিবর্তনের উদ্যোগ না নিয়ে গ্রাহকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া এ ধরনের মিটার স্থাপন বন্ধ করতে হবে।
AAECA-র পক্ষ থেকে মোট পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—অকেজো মিটার বিনামূল্যে পরিবর্তন করে নতুন মিটার স্থাপন, গত দেড় বছরে দেওয়া অতিরিক্ত ও গড় বিল সংশোধন করে প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণ, সংযোগ বিচ্ছিন্নের আগে নিয়ম মেনে লিখিত নোটিশ প্রদান, প্রতি মাসে মিটার রিডারকে সরেজমিনে গিয়ে সঠিক রিডিং নেওয়া এবং গ্রাহকের অনিচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দ্রুত সমস্যাগুলির সমাধান না হলে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে AAECA।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগণের সামনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি সুনীতরঞ্জন দত্ত এবং সম্পাদক সুজিতকুমার পাল। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য জ্যোতিষ পুরকায়স্থ, বিষ্ণু দত্ত পুরকায়স্থ, গোপালচন্দ্র পাল, আব্দুর রহিম, মো. সামস উদ্দিন, সামসুল বারী চৌধুরী, তুতিউর রহমান চৌধুরী, দাহার উদ্দিন, জয়নুল হক, মোখতার আহমদসহ অন্যান্যরা।



