মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট : বৃহত্তর বাজারিছড়া এলাকার কালাছড়ায় এই প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে চলেছে গণেশ চতুর্থীর পূজা। কালাছড়া নবযুবক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই পূজাকে ঘিরে স্থানীয় সনাতনী সমাজের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। পূজা উপলক্ষে দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপ নির্মাণের কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে খুঁটি পুজোর মাধ্যমে। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে খুঁটি পুজো সম্পন্ন হওয়ার পরই শুরু হয়েছে মণ্ডপ নির্মাণের প্রস্তুতি। সংঘের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উৎসাহের সঙ্গে এই উদ্যোগে সামিল হয়েছেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে গণেশ পূজার মূল অনুষ্ঠান। তার আগের দিন ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে পূজা মণ্ডপ। মণ্ডপ উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনও থাকছে বলে জানিয়েছে পূজা কমিটি।
প্রথমবারের আয়োজন হওয়ায় অযথা আড়ম্বর বা অতিরিক্ত ব্যয়ের পথে না গিয়ে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই ভক্তি, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পূজা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পূজার আয়োজনে যাতে কোনও ধরনের খামতি না থাকে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
পূজা কমিটির কর্মকর্তাদের মতে, এই আয়োজন শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এলাকার মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করারও একটি প্রয়াস। তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রথমবার এমন আয়োজন ঘিরে এলাকায় নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। পূজার দিন ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও থাকবে। বৃহত্তর বাজারিছড়া ও কালাছড়া এলাকার সনাতনী সমাজের পাশাপাশি দূরদূরান্তের ভক্তদেরও পূজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা।

পূজা পরিচালন কমিটির সভাপতি সুজন পাল, সহ-সভাপতি সাগর সূত্রধর, সম্পাদক প্রকাশ পাল, সহ-সম্পাদক রাজ পাল ও বিশাল পাল এবং কোষাধ্যক্ষ রুবেল পাল-এর নেতৃত্বে চলছে প্রস্তুতি। কমিটির অন্যান্য দায়িত্বে রয়েছেন ভূবন সূত্রধর, কানাই পাল, রতন চক্রবর্তী, অমিত দেব, অনুপম মালাকার, রাজ দে, পাপাই দাস, রিমন পোদ্দার, রাজু দাস, জয়দীপ দাস, লিপটু পাল-সহ আরও অনেকে।
খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া প্রথম গণেশ চতুর্থীর আয়োজনকে সফল করতে মণ্ডপ নির্মাণসহ পূজার যাবতীয় প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সংঘের সদস্যরা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিদ্ধিদাতা গণেশের আশীর্বাদে এলাকার মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনাই এবারের পূজার মূল উদ্দেশ্য।
জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকরা। কালাছড়া নবযুবক সংঘের পক্ষ থেকে বৃহত্তর বাজারিছড়া এলাকার সকল সনাতনী জনগণকে ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মণ্ডপ উদ্বোধন এবং ১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থীর পূজা ও প্রসাদ গ্রহণের জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।



