শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া
বরাক তরঙ্গ, ২৭ আগস্ট : অসম সরকারের নতুন পরিবেশ ও বন বিভাগের নিয়ম মেনে রাজস্ব জমা দিয়ে ‘ব্রাউন টিপি’ সংগ্রহ করার পরও মেঘালয় থেকে ত্রিপুরাগামী শতাধিক পাথর বোঝাই ডাম্পার লক্ষীছড়ায় আটকে থাকার ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। টানা পাঁচ-ছয় দিন ধরে জাতীয় সড়কের পাশে ডাম্পারগুলি দাঁড়িয়ে থাকায় চালকদের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে ক্ষোভ। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তাঁদের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ যে কোনও সময় প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মেঘালয় থেকে ক্র্যাশারের পাথর নিয়ে ত্রিপুরার উদ্দেশে রওনা দেওয়া ডাম্পার গুলি বরাক উপত্যকায় প্রবেশের পর অসম সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রাজস্ব জমা দেয়। এরপর নিয়ম মেনে ‘ব্রাউন টিপি’ সংগ্রহও করা হয়। সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের আধিকারিকের তরফে গাড়িগুলিতে ‘ব্রাউন টিপি’ থাকার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তারপরও কেন ডাম্পারগুলিকে লক্ষীছড়ায় আটকে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা পাচ্ছেন না চালকরা।
দীর্ঘদিন ধরেই বরাক উপত্যকার সড়কপথ ব্যবহার করে মেঘালয় থেকে পাথর ত্রিপুরায় পরিবহণ করা হচ্ছে। এই পরিবহণ থেকে সরকার রাজস্বও পেয়ে থাকে। ফলে এবার সমস্ত নিয়ম মেনে রাজস্ব জমা ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের পরও ডাম্পার আটকে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। চালকদের দাবি, তাঁরা সরকারি নিয়ম মেনেই পাথর পরিবহণ করছেন। অথচ পাঁচ-ছয় দিন ধরে আটকে থাকায় তাঁদের সময় ও আর্থিক-দুই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
অসম-মেঘালয় সীমান্তের বন বিভাগের বলেশ্বর বিট অফিসের আধিকারিক মিন্টু বরুয়া জানান, বহিঃরাজ্য থেকে অসমে পাথর নিয়ে প্রবেশ করা গাড়ির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ‘ব্রাউন টিপি’ সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। মেঘালয় থেকে আসা পাথর বোঝাই ডাম্পারগুলিতে ‘ব্রাউন টিপি’ রয়েছে এবং তিনি বিষয়টি পরীক্ষা করেও দেখেছেন বলে জানান। তবে এরপরও কেন গাড়িগুলি লক্ষ্মীছড়ায় আটকে রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, গুমড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রণব মিলির বক্তব্য, আটকে থাকা ডাম্পার গুলিকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ঠিক করে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ডাম্পারের ওজন নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, ডাম্পার আটকে থাকায় জাতীয় সড়কের পাশে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ভারী যান দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে আটকে থাকা চালকদের ক্ষোভ আরও বাড়ছে। তাঁদের প্রশ্ন – নথিপত্র ও রাজস্ব সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার পরও যদি যাত্রার অনুমতি না মেলে, তাহলে ঠিক কোন কারণে তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে?
অন্যদিকে, সূত্রের দাবি, পাথর বোঝাই ত্রিপুরাগামী ডাম্পারগুলি আটকে থাকলেও নিয়ম মেনে বনজ সম্পদ পরিবহণকারী কিছু যানবাহন স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে। এই পরিস্থিতিতে পাথরবোঝাই ডাম্পারগুলির ক্ষেত্রেই কেন এমন বিধিনিষেধ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে লক্ষীছড়ায় শতাধিক ডাম্পার আটকে থাকার ঘটনায় তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। চালকদের দাবি, যদি নথিপত্রে কোনও ত্রুটি থাকে, তবে তা স্পষ্ট করে জানানো হোক। আর সবকিছু নিয়মমাফিক থাকলে দ্রুত তাঁদের গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কবে এই জটিলতার অবসান ঘটায় এবং দীর্ঘদিনের এই পাথর পরিবহণ ব্যবস্থা ফের স্বাভাবিক হয়।



