২৫ আগস্ট : গত ১২ বছরে দেশে অথবা বিদেশে তিনি কোনো সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। বিরোধীরা বারবার এই অভিযোগে সরব যে, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন সবই একমুখী। জাতির উদ্দেশে ভাষণ, জনসভা, রিলস, ভিডিয়ো বার্তা, অনলাইন সভা অথবা সরকারি কর্মসূচি, মন কি বাত সব ক্ষেত্রেই তিনি বলেন। অন্যরা শোনে। পালটা প্রশ্ন শোনা এবং তার উত্তর প্রদান— যে-কোনো রাজনীতিক ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ক্ষেত্রে অতি স্বাভাবিক এই দৃশ্য নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। দীর্ঘদিনের এই অভিযোগের মধ্যেই সম্প্রতি নতুন তথ্য সংযোজন করলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। মোদি সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলে জানিয়ে দিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশেও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে চান না। একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের জুন মাসে ফ্রান্সে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। সেই সময় ভারত সরকার আয়োজকদের আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে, কোনো সরাসরি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন যেন করা না হয়। সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষভাবে দুই রাষ্ট্রনায়কের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করুক এবং সামগ্রিক কোনো প্রশ্নোত্তর পর্ব হোক, এটা ভারত চায় না। যদিও ট্রাম্প সেই অনুরোধ রক্ষা করেননি। তিনি বৈঠক শেষে ভারতের অনুরোধ অগ্রাহ্য করেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সাংবাদিক সম্মেলন শুরু করে দেন। এবং ৪৫ মিনিট ধরে তিনি সাংবাদিকদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেন।’
জুন মাসে ফ্রান্সের আঁ লে বানে আয়োজিত হয়েছিল জি৭ সম্মেলন। সেখানে ভারত ছিল বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি। সেই সূত্রেই গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প সহ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হয় প্রধানমন্ত্রীর। শনিবার দিল্লিতে সংবাদমাধ্যম আয়োজিত এক কনক্লেভে যোগ দিয়ে সার্জিও গোর সেই বৈঠকের ‘গোপন কথা’ বলে ফেলায় বিরোধীরা আবার অস্ত্র শানিয়েছে। কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি তো বটেই, ককরোচ জনতা পার্টি পর্যন্ত কটাক্ষ করে বলেছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ১২ বছরে একবারও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। এবার আমেরিকার রাষ্ট্রদূত স্বয়ং প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেন যে, মোদিজী বিদেশেও সাংবাদিক সম্মেলনে রাজি নন। কেন? মোদিজি সাংবাদিক সম্মেলনে বিমুখ কেন?’ কংগ্রেস মুখপাত্র শামা মহম্মদ বলেন, ‘প্রশ্ন নিতে মোদিজি ভীত কেন? আর সার্জিও গোর যে কথা বললেন, সেটা ভারতের জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও অসম্মান। কারণ, ভারতের অনুরোধ সত্ত্বেও ট্রাম্প সাংবাদিক সম্মেলন করেন। অথচ তিনি জানতেন যে, মোদিজি সাংবাদিক সম্মেলনে রাজি নন।’ বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই সোমবার ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক সম্মেলন অথবা কূটনৈতিক বৈঠকের একটি সাধারণ রীতি থাকে। সেটিকে স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল বলা যেতে পারে। সেটাই ওই ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়েছিল। তাছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত আচরণ সম্পর্কে সংশয় ও শঙ্কা ছিল ভারতীয় প্রতিনিধিদলের।’ এ প্রসঙ্গে ইউক্রেন, দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পের ব্যবহারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের প্রচারপর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর বিজেপি সদর দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন মোদি। প্রবল প্রত্যাশা ছড়িয়ে পড়ে যে এই প্রথম সম্ভবত তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে জানিয়ে দেওয়া হয়, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন অমিত শাহ। নরেন্দ্র মোদি নয়। বাস্তবেও ঠিক তাই ঘটেছিল।



