দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৩ আগস্ট : ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজরিকার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে রবিবার শিলচর গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত হল এক বৃহৎ সঙ্গীত প্রতিযোগিতা। দক্ষিণ অসমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় একশো ক্ষুদে সঙ্গীতশিল্পী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। সাই সঙ্গীতালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সম্মিলিত কণ্ঠে ‘আমরা করব জয়’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে ভূপেন হাজরিকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগ, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বিভাস দেব, সরকারি বালিকা উচ্চতর বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা মধুছন্দা দে, শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা নন্দিনী চক্রবর্তী, বিধায়কের প্রতিনিধি পুলক দাস, সমাজসেবী পি.এন. ব্রহ্ম, সমাজকর্মী জয়জিৎ বিশ্বাস এবং ব্যতিক্রম পরিবারের শিলচর সংযোজক ভাস্কর দাস-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট দোতারা বাদক সুদর্শন নাথ ভায়োলিনে ‘গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা’ গান পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে ও স্মারক উপহার দিয়ে সংবর্ধনা জানান আয়োজকরা।
কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগ বলেন, ভূপেন হাজরিকা বাংলা ও অসমিয়া সঙ্গীত জগতের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর শিল্পজীবনের মূল কেন্দ্রে ছিল মানুষ ও সমাজ। বিধায়কের প্রতিনিধি পুলক দাস আয়োজকদের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রতিযোগীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। মধুছন্দা দে, নন্দিনী চক্রবর্তী ও সমাজকর্মী জয়জিৎ বিশ্বাসও ভূপেন হাজারিকার গান মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে উল্লেখ করেন।
ব্যতিক্রম পরিবারের পক্ষ থেকে ভাস্কর দাস বলেন, ধর্ম, ভাষা ও আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে ভূপেন হাজরিকা তাঁর সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আলোর বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথমবারের মতো দক্ষিণ অসমের ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বাছাই করা ক্ষুদে প্রতিভারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিজয়ীরা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নেবেন।

ফাইনালের বিজয়ীদের জন্য ট্রফি ও আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শিলচরের বঙ্গভবনে বিজয়ীদের সংবর্ধনা এবং বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে কলকাতার বাংলা সঙ্গীত দল ‘দোহার’ এবং গুয়াহাটির বিশিষ্ট শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি, ফাইনালে শিলচরের স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘শতকণ্ঠে ভূপেন হাজারিকা’ শীর্ষক বিশেষ মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শিলচর আকাশবাণী ও দূরদর্শনের নিয়মিত শিল্পী গৌতম সিনহা ও সীমা পুরকায়স্থ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভাস্কর দাস। সহযোগিতায় ছিলেন সমাজকর্মী জয়দীপ চক্রবর্তী, কানাই দাস, পরিতোষ চক্রবর্তী, ঝিমলি নাথ-সহ আরও অনেকে।
এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হল সুধাকণ্ঠ ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী সুর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সমৃদ্ধ সঙ্গীত ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।



