বরাক তরঙ্গ, ২২ আগস্ট : বরাক উপত্যকার ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দিরের পরিচালন কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জল গড়িয়েছে থানা অবধি। কমিটি ভেঙে দেওয়া, নতুন কমিটি গঠন, ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ ফেরত এবং মন্দির ও সিদ্ধেশ্বর বারুণী মেলার জন্য যৌথ কমিটি তৈরির মতো একাধিক দাবি করা ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে পাঁচগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট পাঁচগ্রামের জিপি সভাপতি হীরালাল দাস এবং কাছাড়ের কাতিরাইলের বাসিন্দা সাংবাদিক যীশু নাথ তাঁদের নিজ নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই ধরনের একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। সেখানে দাবি করা হয়, সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দিরের পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির অর্থ কোনও ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাখা যাবে না এবং ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে থাকা কমিটির টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টে আরও দাবি করা হয়, নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থকে রাখা হবে। পাশাপাশি সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দির এবং সিদ্ধেশ্বর বারুণী মেলা পরিচালনার জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়। পোস্টে এসব বিষয়কে বিধায়কের বক্তব্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই দাবিগুলো নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দির পরিচালন কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে পোস্টে প্রকাশিত তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী তথা ঐতিহাসিক মন্দির কমিটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই সামাজিক মাধ্যমে এমন তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
কমিটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দির পরিচালন কমিটির সভাপতি বর্তমানে জেলা কমিশনার। এমন পরিস্থিতিতে মন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে কোনও তথ্য প্রকাশের আগে যথাযথভাবে বিষয়টি যাচাই করা উচিত ছিল বলেও মত প্রকাশ করেছে কমিটি। মন্দির কমিটির কর্মকর্তাদের কথায়, কীভাবে মন্দিরকে সুচারুরূপে চালানো যায়, এনিয়ে সারাদিন তারা ব্যস্ত থাকেন, কারও ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক খাতায় কোনও লেনদেন করা হয় না, তাহলে কেন সামাজিক মাধ্যমে এমন মিথ্যা পোস্ট করা হয়েছে? এতে তাদের আত্মসম্মানে আঘাত লেগেছে। ফেসবুক পোস্টটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে শুক্রবার অর্থাৎ ২১ আগস্ট রাতে হীরালাল দাস ও যীশু নাথের বিরুদ্ধে পাঁচগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মন্দির পরিচালন সমিতির সম্পাদক সুজন ভট্টাচার্য, এসময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সুখেন্দু কর, কার্যকরী সভাপতি রঘু ভূঁইয়া সহ সমিতির অন্যান্য সদস্যরা। এদিকে, থানায় এজাহারের খবর পেয়ে ফেসবুক পোস্টটি মুছে দিয়েছেন সাংবাদিক যীশু নাথ ও জিপি সভাপতি হীরালাল দাস। কিন্তু ব্যাপার হলো, ২৪ ঘণ্টার উপর ফেসবুকে থাকা এই পোস্টে অনেকের কাছে পরিচালন সমিতির কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন উভয়েই।
অন্যদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত দাবির সত্যতা, অভিযোগকারীদের ভূমিকা এবং মন্দির কমিটির অভিযোগ – সবকিছু তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। এখন পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর সকলের।



