২২ আগস্ট : ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলায় স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মৃত তিন ইঞ্জিনিয়ার। এ ছাড়াও, গুরুতর জখম একজন। শুক্রবার গভীর রাতে পত্রাতু ব্লকের হেহাল এলাকার ‘মা ছিন্নমস্তিকা সিমেন্ট অ্যান্ড ইস্পাত প্রাইভেট লিমিটেড’ কারখানার স্পঞ্জ আয়রন ইউনিটে দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রচণ্ড শব্দে কারখানার একটি টারবাইনে বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তের মধ্যে গোটা প্ল্যান্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ৪-৫টি ইঞ্জিন। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকল কর্মীরা।
কারখানা সূত্রে খবর, টারবাইন প্যানেল কন্ট্রোল রুমের এসি বেশ কয়েক দিন ধরেই খারাপ ছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ অতিরিক্ত গরমের কারণে টারবাইন প্যানেল সিস্টেম হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। সেই সময়ে কর্তব্যরত ইঞ্জিনিয়াররা প্যানেল কন্ট্রোল সিস্টেমের জরুরি ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করলেও তা কাজ করেনি। যার জেরে মুহূর্তের মধ্যে জোরালো আওয়াজ করে টারবাইন ফেটে যায়।
টারবাইন ফেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিতর থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়ে মারা যান শিফট ইনচার্জ ও ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জীব কুমার কেশরী (৫০), ইঞ্জিনিয়ার বিনীত মাহাতো (২৫) এবং অভিষেক পান্ডে (২৪)। এ ছাড়াও, তরুণ রাবানি নামে এক কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরে কারখানার নাইট শিফটের কর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। প্রাণ ভয়ে শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কারখানার পাওয়ার প্ল্যান্ট ইনচার্জের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত উদাসীনতা ও এসি না লাগানোর কারণে ও অতিরিক্ত গরমে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। শনিবার সকাল থেকেই কারখানার গেটে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকরা। স্থানীয়রা মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনের চাকরির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।



