ডেইলি মেইলের বিরুদ্ধে মামলা হেরে বিপুল আইনি খরচের মুখে প্রিন্স হ্যারিসহ সাত বাদী

Spread the news

২২ আগস্ট : যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এর প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারস লিমিটেডের (এএনএল) বিরুদ্ধে করা মামলায় হেরে প্রিন্স হ্যারিসহ সাত বাদীকে প্রাথমিকভাবে ৯৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড আইনি খরচ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির হাইকোর্ট। মামলাটি পরিচালনার ধরনকে ‘অত্যন্ত অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করে এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ম্যাথিউ নিকলিন। প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে মামলার বাদী ছিলেন সংগীতশিল্পী স্যার এলটন জন, তাঁর স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, অভিনেত্রী লিজ হার্লি, অভিনেত্রী স্যাডি ফ্রস্ট, সাবেক লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি সাইমন হিউজ এবং মানবাধিকারকর্মী ব্যারোনেস ডোরিন লরেন্স। ডেইলি মেইল ও এর সংশ্লিষ্ট প্রকাশনার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এনেছিলেন তাঁরা।

গত ৭ জুলাই বিচারপতি নিকলিন সাত বাদীর সব অভিযোগ খারিজ করে দেন। আদালত জানায়, এএনএল বেআইনিভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে—এমন দাবি প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত প্রমাণ বাদীরা উপস্থাপন করতে পারেননি। শুরু থেকেই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছিল এএনএল। শুক্রবারের রায়ে বিচারপতি নিকলিন মামলার খরচ ‘ইনডেমনিটি বেসিসে’ পরিশোধের নির্দেশ দেন। এর ফলে বাদীদের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনায় যে ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় এএনএলের আইনি খরচের বড় অংশ তাঁদের বহন করতে হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ৯৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এএনএল আইনি খরচ বাবদ মোট প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড দাবি করেছিল। তবে বিচারপতি নিকলিন এই দাবিকে অতিরিক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। খরচের প্রতিটি খাত যুক্তিসংগত কি না এবং দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ যথাযথ কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে মোট আদায়যোগ্য খরচের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেননি তিনি। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এএনএল। প্রকাশকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ডেইলি মেইল, এর সাংবাদিক ও সম্পাদকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় এবং তাঁদের সুনাম রক্ষার স্বীকৃতি।

অন্যদিকে, বাদীদের অন্যতম সাইমন হিউজ রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। মূল রায়, আইনি খরচসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অথবা উভয়ের বিরুদ্ধেই আপিল করা হবে কি না, তা তাঁরা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে প্রিন্স হ্যারি ও ডোরিন লরেন্স এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আশায় তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে মামলায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তাঁরা হতাশ। মূল রায় ও আইনি খরচসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সাত বাদীর হাতে আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *