আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবেক বাহিনী ও যোগ বিজ্ঞান মহাবিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আঞ্চলিক যোগ সম্মেলনের সূচনা

Spread the news

পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২১ আগস্ট:
আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে শুক্রবার সপ্তদিবসীয় আঞ্চলিক যোগ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিবেক বাহিনী ও যোগ বিজ্ঞান মহাবিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহযোগিতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটির রূপায়ণে ছিল ঈশান যোগ বিকাশ এবং পরিচালনায় যোগ সম্মেলন অভ্যর্থনা সমিতি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিবেক বাহিনী ও সুখস্বপ্নন্যাসের প্রতিষ্ঠাতা সুখময় ভট্টাচার্য, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ শান্তি পোখরেল এবং শিলচর রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী গণধীশানন্দজী। অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও বৈদিক মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। বিবেক বাহিনীর সদস্যরা মন্ত্রপাঠের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যায়াম প্রদর্শন করেন।

রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী গণধীশানন্দজী শাস্ত্রসম্মতভাবে যোগের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি যোগ সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দের বিভিন্ন মতামত তুলে ধরে নিয়মিত যোগাসনের মাধ্যমে সুস্থ থাকার বার্তা দেন।

সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ শান্তি পোখরেল স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানের তাৎপর্য তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি সংস্কৃত সম্ভাষণ বর্গের উদ্বোধনের কথাও জানান। শ্রাবণী পূর্ণিমার পুণ্যতিথিতে সংস্কৃত দিবস পালনের অংশ হিসেবে প্রতি বছর সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। এবারের দশদিবসীয় শিবিরের প্রথম দিনের কার্যক্রমও এদিন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনার মূল বিষয় ছিল যোগ, জ্যোতিষ, আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা। এতে ড. সুমন বিশ্বাস ‘আয়ুর্বেদে দ্রব্য বিচার পদ্ধতি’ বিষয়ে পত্র উপস্থাপন করেন। ড. অসীমকান্তি দে ‘আহার বিবেচনায় নক্ষত্রের প্রভাব’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া ড. রাজর্ষি দাস ও ড. স্মৃতি পাল প্রাকৃতিক চিকিৎসা এবং ভারতীয় দর্শন নিয়ে পত্র উপস্থাপন করেন।

বিবেক বাহিনী, যোগ বিজ্ঞান মহাবিদ্যালয় ও সুখস্বপ্নন্যাসের প্রতিষ্ঠাতা সুখময় ভট্টাচার্য বর্তমান সময়ে যোগাভ্যাসের প্রয়োজনীয়তা এবং শরীর ও মনের সুস্থতা বজায় রাখতে এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ শর্মা। কল্যাণ মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৮০ জন উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত, মণিপুরী, বাংলা, দর্শনসহ বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও গবেষিকারা এতে অংশ নেন। সম্মেলনের পরবর্তী দিনের কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *