বরাক তরঙ্গ, ২০ আগস্ট : ত্রিপুরার খোয়াই শহরে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। জেলা হাসপাতাল সংলগ্ন জিএবি চৌমুহনী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তবে অনুপ্রবেশের নেপথ্যে থাকা দালালচক্র এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। খোয়াই সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির ওসি রঞ্জিত সরকার জানান, প্রায় দুই মাস আগে ওই ছয় যুবক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া টপকে খোয়াই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এরপর তারা দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছিল। সম্প্রতি খোয়াই সীমান্ত দিয়ে ফের বাংলাদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা খোয়াই শহরে আসে।
বুধবার শহরের জিএবি চৌমুহনী এলাকায় তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিষয়টি তাঁরা দ্রুত সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়িতে জানান। খবর পেয়ে ওসি রঞ্জিত সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তিরা হলেন—অমলেশ চন্দ্র দাস (২৫), দীপ্ত চন্দ্র দাস (২০), রণ দাস (২৫), জানি দাস (১৮), প্রান্ত চন্দ্র দাস (২২) এবং রাসেল দাস (২১)। প্রত্যেকের বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা থানার বিভিন্ন এলাকায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ যাতায়াতের ক্ষেত্রে দালালচক্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অনুপ্রবেশে সহায়তাকারী মূল দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হোক। শুধু অনুপ্রবেশকারীদের আটক করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলেও মত তাঁদের।
সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপারে যুক্ত দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



