বরাক তরঙ্গ, ১৭ আগস্ট : কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের চারপাশে ইকো-সেনসিটিভ জোন (ESZ) ১০ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ১ কিলোমিটার করার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (APCC)। সোমবার কাজিরাঙার কাছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কংগ্রেসের অভিযোগ, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পরিবর্তে বিজেপি সরকার কর্পোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের দাবি, ESZ কমানোর মাধ্যমে অবৈধ কয়লা খননকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া এবং কাজিরাঙা সংলগ্ন এলাকায় বড় মাপের খনন প্রকল্পের সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।
APCC সভাপতি গৌরব গগৈ বলেন, নাগাল্যান্ডে অবৈধ কয়লা খননের জেরে শিবসাগর, চরাইদেও ও যোরহাটে যে পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, তা থেকে সরকারের শিক্ষা নেওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, সেই অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে সরকার কার্বি আংলং পাহাড়ে বড় খনন প্রকল্পের পথ প্রশস্ত করছে।
গগৈর আশঙ্কা, ESZ-এর পরিধি কমলে কাজিরাঙার জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্ষার সময় বন্যার জল বাড়লে হাতি, গণ্ডারসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উদ্যানের বাইরে চলে আসে। আশপাশের এলাকা যদি খনি, কোয়ারি ও পাথরভাঙা কারখানায় ঘেরা থাকে, তাহলে প্রাণীদের নিরাপদ চলাচল ও আশ্রয়ের সুযোগ কমে যাবে। এর ফলে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
আদিবাসী অধিকারকর্মী প্রণব ডোলের গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে গগৈ অভিযোগ করেন, বড় প্রকল্পের বিরোধিতা করলে আন্দোলনকারীদেরও নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ডোলের মামলায় কংগ্রেস আইনি সহায়তা দেবে।
বিক্ষোভে মহিলা কংগ্রেস নেত্রী মীরা বরঠাকুর বলেন, কাজিরাঙার আন্তর্জাতিক পরিচয় তার জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী। উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও তা প্রকৃতি ধ্বংসের বিনিময়ে হতে পারে না।
এদিকে, কাজিরাঙার কাছে প্রস্তাবিত প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার এলিভেটেড করিডরের প্রসঙ্গ তুলে গগৈ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধ সুরক্ষায় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পরে তিনি ইংলে পাথারে প্রণব ডোলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।



