দক্ষিণ করিমগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে তৎপর আমিনুর রশিদ চৌধুরী

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৩ আগস্ট :
দক্ষিণ করিমগঞ্জের ব্লকের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়গুলোর পরিকাঠামো উন্নত করার লক্ষ্যে ব্লক প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিকের কার্যালয় পরিদর্শন করলেন দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক আমিনুর রসিদ চৌধুরী। এদিন শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এলাকার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, শিক্ষার মান, পরিকাঠামো এবং ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন।

বৈঠকে বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষের পর্যাপ্ততা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, শিক্ষার্থীদের বসার উপযুক্ত পরিবেশ, শিক্ষাসামগ্রীর প্রাপ্যতা, শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি, মিড-ডে মিলের মান, বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ, উন্নত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিধায়ক বিদ্যালয়ভিত্তিক সমস্যাগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষার মান মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আমিনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ তার শিশুদের শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আধুনিক, মানসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সুযোগ-সুবিধার অভাবে কোনো শিশু যাতে শিক্ষার মূলধারা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাই শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের মূল ভিত্তি। এই ভিত্তি যত শক্তিশালী হবে, ভবিষ্যতের সমাজ তত বেশি শিক্ষিত ও সচেতন হবে। শিক্ষা-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর বাস্তব সমস্যাগুলি পর্যায়ক্রমে সমাধানের ওপরও জোর দেন বিধায়ক। বৈঠকে শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা, চলমান উন্নয়নমূলক কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন

বিধায়কের সরাসরি পরিদর্শন ও পর্যালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাঁদের মতে, এর ফলে বিদ্যালয়গুলোর সমস্যা দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসবে এবং উন্নয়নমূলক কাজ আরও গতিশীল হবে।

প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *