মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ আগস্ট : উজান অসমের বন্যায় যখন বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, তখন গোলাঘাট জেলার দেরগাঁও বিধানসভা কেন্দ্রের কড়ইওনি ত্রাণ শিবিরে দেখা গেল এক মানবিক মুহূর্ত। শিবির পরিদর্শনে গিয়ে শিশুদের পাশে বসে তাঁদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে সময় কাটালেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
ত্রাণ শিবিরে পৌঁছেই মন্ত্রী প্রথমে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের পড়াশোনা, খেলাধুলা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না, পর্যাপ্ত খাবার ও পুষ্টিকর খাদ্য মিলছে কি না, সে বিষয়েও জানতে চান। কচিকাঁচাদের মাথায় স্নেহভরে হাত রেখে আশীর্বাদ করেন তিনি। মন্ত্রীর এমন আন্তরিক আচরণে মুহূর্তেই শিবিরের পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দুর্যোগের মধ্যেও শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে নির্মল হাসি।
শিশুদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, বন্যার মতো দুর্যোগ যতই কঠিন হোক, শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বপ্নের ধারাবাহিকতা যেন ব্যাহত না হয়। তাঁদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, পুষ্টিকর খাবার, চিকিৎসা পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শিবিরে আশ্রয় নেওয়া অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। তাঁরা বন্যায় তাঁদের দুর্ভোগ, চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে নিজেদের কথা তুলে ধরেন। ধৈর্য সহকারে তাঁদের বক্তব্য শোনার পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে শিশু, নারী, প্রবীণ ও অসুস্থদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে শিবিরে স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পানীয় জলের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য সরকার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকবে। তাঁর এই মানবিক উপস্থিতি ত্রাণ শিবিরে নতুন করে আশার সঞ্চার করে।



