যুবতীকে নিয়ে পালানোর সময় গ্রামবাসীর হাতে আটক ত্রিপুরার বিবাহিত যুবক কালাইনে

Spread the news

শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ৮ আগস্ট :
কাছাড়ের কালাইন এলাকায় চাঞ্চল্য। স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও এক যুবতীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ত্রিপুরার এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে ওই যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে। অভিযোগ, ত্রিপুরার বাসিন্দা সঞ্জীব তুরিয়া মোবাইল ফোনে কাছাড় জেলার কালাইন এলাকার সিন্দুরা চা-বাগানের ১৫ নম্বর এলাকার এক যুবতীর সঙ্গে পরিচিত হন। কথাবার্তার সূত্র ধরে ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে ওই যুবক যুবতীকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ। যুবতীর দাবি, প্রথমদিকে তিনি যেতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু সঞ্জীব তুরিয়া আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাকে সঙ্গে যেতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, যুবকের সঙ্গে যাওয়ার পরই যুবতী জানতে পারেন, সঞ্জীব তুরিয়া আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোটা ঘটনা জানান।

পরিবারের সদস্যরা যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তারা বিষয়টি মেনে নিতে প্রস্তুত এবং দুজনকেই বাড়িতে ফিরে আসতে বলেন। একইসঙ্গে যুবতীর মা অসুস্থ থাকায় দ্রুত বাড়ি ফেরার অনুরোধ জানানো হয়। এরপর ওই যুবক যুবতীকে নিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন।

বাড়িতে ফেরার পর বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা যুবকটিকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সংবাদমাধ্যমের সামনে যুবতী জানান, সম্পর্কের শুরুতে তিনি জানতেন না যে ওই যুবক বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। বিষয়টি জানার পর বর্তমানে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে আর যেতে চান না বলেও স্পষ্ট করেন।

এদিকে, ঘটনাটিকে ঘিরে আরও একটি গুরুতর আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন বৈকুণ্ঠপুর জিপি সভানেত্রী মীরা কুর্মি। তার বক্তব্য, ঘটনাটির নেপথ্যে কোনো নারী পাচার চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে যুবকটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। যুবক ও যুবতীর বক্তব্য সহ গোটা ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *