দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৬ আগস্ট: রংপুরের শিমূলতলার সর্বজনীন শ্মশান কালীমন্দির প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আর্ট অফ লিভিং-এর শিলচর শাখার উদ্যোগে শ্রাবণ মাস উপলক্ষে রুদ্র পূজার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন স্বামী আত্মচৈতন্যজি। পূজার বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পুরী থেকে আগত পণ্ডিত সুশান্ত পাণ্ডা ও মৃত্যুঞ্জয় পাণ্ডা। অনুষ্ঠানের সূচনায় বিশ্ববিখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে ওম মন্ত্রোচ্চারণ, গণেশ বন্দনা, গুরু বন্দনা এবং ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বামী আত্মচৈতন্য বলেন, রংপুরের শিমূলতলায় এই প্রথমবারের মতো বিশ্বশান্তি ও সর্বজনের মঙ্গল কামনায় আর্ট অফ লিভিং-এর শিলচর শাখার উদ্যোগে রুদ্র পূজা বা শিব পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি এই আয়োজন সফল করতে আর্ট অফ লিভিং-এর বরাক উপত্যকার গ্রামীণ সমন্বয়কারী ও যোগাচার্য শ্যামলাল দাসের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ ধরনের আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮১ সালে শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর প্রতিষ্ঠিত আর্ট অফ লিভিং একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক মানবিক ও শিক্ষামূলক সংস্থা, যা যোগ, ধ্যান এবং মানসিক চাপমুক্ত সমাজ গঠনের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আর্ট অফ লিভিং-এর সদস্যরা শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং ‘আর্ট অফ লিভিং’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ভ্যালুজ’-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাদের দাবি, সংস্থার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশের আট কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে এই উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে আর্ট অফ লিভিং-এর প্রশিক্ষক পুলক ভট্টাচার্য, নন্দা শর্মা, জয়দীপ নাথ, সুমন পাল, মৈনাক দাস, সত্যম অধিকারী, সৌমিত্র আচার্য্য, অরুন্ধতী দেবরায়সহ সংস্থার সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্টজন এবং বহু ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে আর্ট অফ লিভিং-এর প্রতিনিধিরা সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সকলকে এই মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বরাক উপত্যকাজুড়ে আরও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচি গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।



