৫ আগস্ট : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক ভিডিও কয়েক ঘণ্টার জন্য সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মেটার (Meta) বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিল সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি। Meta-র প্রতিষ্ঠাতা ও CEO মার্ক জ়ুকেরবার্গ মোদির ভিডিয়ো সরানোর ঘটনায় ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষমা না চাইলে বিপদে পড়বে ফেসবুক-ইনস্টা। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র দুঃখপ্রকাশ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। সংস্থাকে তিন দিনের মধ্যে কার দায় তা নির্ধারণ করে যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে, অন্যথায় ভারতে Meta-র ‘সেফ হারবার সুরক্ষা’ (Safe Harbour) অর্থাৎ আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হতে পারে।
সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘Meta-র প্রতিষ্ঠাতা ও CEO মার্ক জ়ুকেরবার্গকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।’ তাঁর অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির ঘটনা নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের উপর আঘাত। ১.৪ বিলিয়ন জনতার প্রতিনিধি— প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বার্তা কয়েক ঘণ্টার জন্য অদৃশ্য হয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তিনি বলেন, ‘যদি এই ঘটনার জন্য কোনও সুস্পষ্ট জবাব না থাকে, তা হলে সাধারণ ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য ও মতপ্রকাশের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।’
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পোস্ট করা ফেসবুক সেলফি ভিডিয়োকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। সেই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথম ছাত্র-যুবকদের বার্তা দেন এবং প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইনের আশ্বাস দেন। কিন্তু ভিডিও রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ফেসবুকে দেখা যায়নি। পরে Meta জানায়, এটি একটি ‘অপারেশনাল বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ ছিল এবং ভুলবশত ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এর পরে সেটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়।



