শিলচরে সীমান্ত চেতনা মঞ্চের সম্মেলনে সীমান্তবাসীর উন্নয়ন ও জাতীয় চেতনা জোরদারের ওপর গুরুত্ব

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুলাই : এনআইটি শিলচরে ২৫ ও ২৬ জুলাই সীমান্ত চেতনা মঞ্চ, পূর্বোত্তরের দুই দিনব্যাপী রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে আসামের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী কোকরাঝাড়, চিরাং, বাক্সা ও উদালগুড়ি এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ শালমারা, কাছাড়, শ্রীভূমি ও ধুবড়ি জেলার পাশাপাশি গুয়াহাটি, উত্তর লখিমপুর ও বঙাইগাঁও থেকেও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তিনি যোগ দিতে পারেননি। তবে তিনি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়ে সম্মেলনের সফল আয়োজনের জন্য আয়োজকদের অভিনন্দন জানান।

মঙ্গলদীপ প্রজ্বলন ও ভারতমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে সীমান্ত চেতনা মঞ্চ, পূর্বোত্তরের রাজ্য সভাপতি বাবলু কুমার রায় স্বাগত ভাষণে সীমান্ত অঞ্চলে জাতীয় চেতনা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে সংগঠনের লক্ষ্য ও কর্মসূচি তুলে ধরেন।

সীমা জাগরণের অখিল ভারতীয় সংরক্ষক এ. গোপাল কৃষ্ণন তাঁর বক্তব্যে সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা এবং জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এনআইটি শিলচরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিহারেন্দু ধর সীমান্ত চেতনা মঞ্চের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে ‘সীমান্ত২৬’ শীর্ষক স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। কাছাড় জেলা সভাপতি অধ্যাপক দেবতোষ চক্রবর্তী স্মরণিকা প্রকাশে লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সীমান্ত এলাকার মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণকে দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন। তিনি ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে সংগঠনের বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সমাপনী অধিবেশনে বাবলু কুমার রায় সীমান্তবাসীর কল্যাণ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সীমান্ত কেবল ভৌগোলিক রেখা নয়, এটি দেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সমাপ্তি বক্তব্যে বিনীতা ভগবতী বলেন, সীমান্ত গ্রামকে ‘শেষ গ্রাম’ নয়, ‘প্রথম গ্রাম’ হিসেবে বিবেচনা করে তার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে হবে। এ. গোপাল কৃষ্ণন নিয়মিত রাজ্য সম্মেলন আয়োজনের জন্য আসামের প্রশংসা করেন এবং সীমান্ত অঞ্চলের ইতিহাস ও বাস্তবতা তুলে ধরতে জেলাভিত্তিক স্মরণিকা প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অধ্যাপক দেবতোষ চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে নৈতিক মূল্যবোধ, চরিত্র গঠন এবং দেশপ্রেমের মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’র উল্লেখ করে জাতি গঠনে আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অতিথি, প্রতিনিধি ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী রাজ্য সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *