বরাক তরঙ্গ, ২৫ জুলাই : হাইলাকান্দি জেলার লালা থানার অন্তর্গত জয়কৃষ্ণপুর বাজারে শুক্রবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছেন বহু ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে দমকল বাহিনীর ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত প্রায় ১টার দিকে বাজারের একটি দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বাজারের এক সারির ২০ থেকে ২৫টি দোকান আগুনে ভস্মীভূত হয়।
আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার করে মানুষকে সতর্ক করেন। পাশাপাশি মসজিদের মাইকে অগ্নিকাণ্ডের ঘোষণা করা হলে চারদিক থেকে মানুষ ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয়দের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের খবর দেওয়ার পরও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। পরে দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে অধিকাংশ দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রেশন, হার্ডওয়্যার, রড-সিমেন্ট, পানের দোকান, স্টেশনারি ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। আগুনে বিপুল পরিমাণ মালামাল ভস্মীভূত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, জয়কৃষ্ণপুর বাজারে এর আগে এত বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আব্দুল্লাহপুর পুলিশ ফাঁড়ি ও লালা থানার পুলিশ। পরে পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান রামচণ্ডি–নিমাইচাঁদপুর জেলা পরিষদ সদস্য দিলোয়ার হোসেন বড়ভূইয়া। তিনি দমকল বাহিনীর বিলম্বিত উপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় সড়কের ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে আগুন লাগার পরও যদি দমকল পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা সময় লাগে, তাহলে প্রত্যন্ত গ্রামে এমন দুর্ঘটনায় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। তিনি ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে, শাহাবাদ–জামিরা এলাকার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি মান্না খানও ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান হাইলাকান্দির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখর জ্যোতি রায়, হাইলাকান্দি সদর থানার ওসি পল লালহিম চাং-সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।



