শ্রীভূমিতে দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি, এআইডিএসও-র

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ জুলাই :
দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শুক্রবার করিমগঞ্জেও পালিত হলো ‘সংহতি দিবস’। জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ) বাতিল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, ছাত্র আন্দোলনের উপর পুলিশি দমন-পীড়ন বন্ধ এবং সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষার দাবিতে এদিন করিমগঞ্জ শহরের শম্ভু সাগর পার্কে মাতৃভাষা শহীদ বেদীর পাদদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (এআইডিএসও)। কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি বহু ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষানুরাগী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবাদস্থল জুড়ে বিভিন্ন দাবিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ।

এদিন বিক্ষোভকারীরা “এনটিএ বাতিল কর”, “কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে”, “ছাত্র আন্দোলনের উপর পুলিশি দমন-পীড়ন বন্ধ কর”, “সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষা কর”, “দিল্লির প্রতিবাদকারী ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নির্মম পুলিশি অত্যাচার ও অন্যায় গ্রেফতার বন্ধ কর”সহ একাধিক স্লোগান তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এআইডিএসও-র করিমগঞ্জ জেলা সম্পাদক সঞ্চিতা শুক্ল বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-ছাত্রীরা যখন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে ন্যায়বিচারের দাবিতে সমবেত হয়েছিলেন, তখন তাদের আন্দোলন দমনে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এর ফলে শতাধিক ছাত্র-যুবক আহত হন এবং বহু আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। একটি গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের উপর এই ধরনের দমন-পীড়ন অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের উপর যে নির্মম ও অগণতান্ত্রিক আচরণ করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানায় এআইডিএসও। সংগঠনের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা গণআন্দোলনকে দমন করার এই হিংসাত্মক পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারের ছাত্রবিরোধী ও জনবিরোধী চরিত্রকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছে।সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার মূল সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার পরিবর্তে আন্দোলন দমনে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বহু মেধাবী পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত দুই মাস ধরে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এআইডিএসও-র দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের জেরে দেশজুড়ে ২০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, যার নৈতিক দায় এড়াতে পারে না কেন্দ্রীয় সরকার।বক্তারা আরও বলেন, পরীক্ষার আগেই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলেও জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ) এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী কার্যত নীরব ছিলেন। প্রথমদিকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এআইডিএসও-র দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত এক দশকে দেশের প্রায় ৮৯টি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং ৪৮টি পরীক্ষা পুনরায় নিতে হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর জীবনে। সংগঠনের অভিযোগ, ‘এক দেশ, এক পরীক্ষা’ নীতির আওতায় এনটিএ-কে একচেটিয়া ক্ষমতা দেওয়ার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ বাণিজ্যিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার কোচিং শিল্প এই ব্যবস্থাকে আরও বৈষম্যমূলক করে তুলেছে।

প্রতিবাদ সভা থেকে এআইডিএসও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ, জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ) বিলুপ্ত করা, আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশি দমন-পীড়ন ও অগণতান্ত্রিক আচরণ বন্ধ করা, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করা।শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে করিমগঞ্জ জেলার ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রেমী সাধারণ মানুষকে এই দাবিগুলির সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণআন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এআইডিএসও-র জেলা সভাপতি সুজিত কুমার পাল, রাজ্য কাউন্সিলের সদস্য জয়দীপ দাস, বাবলী দাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *