এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে অসম স্টেট জমিয়ত উলমা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২২ জুলাই : চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশের প্রায় ছয় বছর পর অসম স্টেট জমিয়ত উলমা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সংগঠনটি এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র (NRC Identity Card) এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৯ লক্ষেরও বেশি মানুষের জন্য প্রত্যাখ্যানপত্র (Rejection Slip) ইস্যু করে এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ চেয়েছে, যাতে বাদ পড়া ব্যক্তিরা আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।

অন্তর্ভুক্তদের পরিচয়পত্র ও বাদ পড়া ১৯ লক্ষের বেশি মানুষের জন্য প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়ার আর্জি

মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ও প্রাক্তন এআইইউডিএফ বিধায়ক রফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত এনআরসি প্রকাশিত হলেও এখনও পর্যন্ত অন্তর্ভুক্তদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। একইভাবে, বাদ পড়া ব্যক্তিদেরও কেন তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, অসম স্টেট জমিয়ত উলমার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমি দায়ের করা এই মামলা রিট পিটিশন (সিভিল) নং ৮৩৯/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ ইতিমধ্যেই অসম সরকার, কেন্দ্র সরকার, ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল (আরজিআই) এবং এনআরসি কর্তৃপক্ষকে নোটিস জারি করে হলফনামার মাধ্যমে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

রফিকুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, সুপ্রিম কোর্ট দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেবে, যাতে এনআরসিতে অন্তর্ভুক্তরা পরিচয়পত্র পান এবং বাদ পড়া ব্যক্তিরা প্রত্যাখ্যানপত্রের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ায় নিজেদের দাবি উপস্থাপন করতে পারেন।

সংগঠনের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, অসম স্টেট জমিয়ত উলমা আইন অনুযায়ী অবৈধ বিদেশিদের শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের পক্ষে। তবে বিদেশি শনাক্তকরণের নামে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি বা বিদেশি আখ্যা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিরোধী তারা।

এদিকে, ভোটার তালিকার চলমান বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে বলেন, ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়লেই তাঁর নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় না। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের কোনও ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা নেই। তিনি আরও বলেন, এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন নেই এবং সরকারকে আর বিলম্ব না করে দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ থাকা এনআরসি প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *