মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৮ জুলাই : শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি কো-ডিস্ট্রিক্ট কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শনিবার রাজস্ব বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সার্কেল অফিস এবং ভূমি নথি (ল্যান্ড রেকর্ডস) শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা বিষয়ক বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
বৈঠকে বর্ষাকালে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, সরকারি বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, ভূমি নথি শাখার কাজের অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি এবং আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। তাঁর মতে, সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বৈঠকে ভূমি সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সরকারি প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের নিয়মিত পর্যালোচনার বিষয়েও আলোচনা হয়। মাঠপর্যায়ে সরকারি পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আরও উন্নত, নির্ভরযোগ্য ও জনবান্ধব পরিষেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাথারকান্দি কো-ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার সপ্ততি এন্ডাও, পাথারকান্দি সার্কল অফিসার আদিতি নুনিসা, সহকারী কমিশনার সীমান্ত বিশ্বাস, সহকারী কমিশনার পূজা দাউলোগোফু, পাথারকান্দি সার্কলের ফিল্ড অফিসার নোভো কুমার দাস, ভূমি রাজস্ব শাখার কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
প্রশাসনিক সূত্রের মতে, এই পর্যালোচনা বৈঠকের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ভূমি প্রশাসন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা মিলেছে। এর ফলে পাথারকান্দি কো-ডিস্ট্রিক্টে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।



