পুরীর রথযাত্রায় বিশৃঙ্খলায় মৃত বেড়ে ২, পদপিষ্টের কোনও ঘটনা ঘটেনি জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Spread the news

১৭ জুলাই : পুরীর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় লাখো ভক্তের ভিড়ের মাঝে গ্র্যান্ড রোড (বড়া দণ্ড)-এ সৃষ্টি হওয়া বিশৃঙ্খলার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে অন্তত ১০০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রথযাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।

তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে ওড়িশা সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকেশ মহালিং দাবি করেছেন, পদপিষ্ট হওয়ার কোনও ঘটনা ঘটেনি। তাঁর বক্তব্য, ৬০ বছর বয়সী এক ভক্ত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান এবং অপর এক ভক্তের মৃত্যু হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির সঙ্গে আলোচনা করে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে তোলার সময় প্রবল বৃষ্টি এবং উপচে পড়া জনসমাগমের ফলে গ্র্যান্ড রোডে তীব্র ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময় ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যান। তাঁকে দ্রুত পুরী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া শ্বাসকষ্টজনিত কারণে আরও এক ভক্তের মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে। ধাক্কাধাক্কিতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত ও অসুস্থ হন।

এদিকে, রথ টানার সময় একটি দড়ির বেষ্টনী ছিঁড়ে বা পড়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০ জন ভক্ত ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাঁদের অনেকেই আহত হয়েছেন। এই অচলাবস্থার জেরে বৃহস্পতিবার জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা স্থগিত রাখতে হয়। শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পাধী জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ফের রথযাত্রা শুরু করা হবে।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের দাবি, এ বছর প্রায় ৯ লক্ষ ভক্ত রথযাত্রায় অংশ নিয়েছেন এবং গোটা আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, কোনও পদপিষ্টের ঘটনা বা জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ঘটেনি। দমকল বিভাগের ডিজি উমাশঙ্কর দাস জানান, বৃষ্টি ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রায় ১০০ জন অসুস্থ হয়ে পড়লেও দ্রুত উদ্ধার করে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

যদিও প্রশাসনের এই দাবি ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আগাম নিরাপত্তা ও উন্নত জনসমাগম ব্যবস্থাপনার আশ্বাস দেওয়া হলেও কীভাবে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হল, তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *