১৬ জুলাই : ঘরের ভেতরে পড়ে নিথর স্বামীর দেহ, পাশেই মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে ৮ বছরের শিশুপুত্র—রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। এমন বিভীষিকাময় দৃশ্যের মাঝেও যেন কোনও কিছুই ঘটেনি! বিছানায় শুয়ে অতি স্বাভাবিক ভঙ্গিতে স্মার্টফোনের পর্দায় আঙুল বুলিয়ে চলেছেন স্ত্রী। কর্ণাটকের ধারওয়াড়ে এক চিকিৎসকের পরিবারে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনাটি যেন কোনও থ্রিলার সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
বুধবার স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ যখন ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে, তখন তাদের সামনে উঠে আসে এক লোমহর্ষক দৃশ্য। পেশায় চিকিৎসক ডাঃ কিরণ হোনান্নাভারের নিথর দেহের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল তাঁর শিশুপুত্র। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমার কোনওমতে নিজের বিস্ময় চেপে দ্রুত আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
তদন্তকারীদের বয়ান অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকেই ডাঃ কিরণের আত্মীয় ও বন্ধুরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। ফোন ধরলে স্ত্রী প্রিয়াংকা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় অদ্ভুত সব অজুহাত দিতে থাকেন। কখনও তিনি দাবি করেন স্বামী বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কখনও বলেন তিনি ডিউটিতে গিয়েছেন। বুধবার আত্মীয়রা ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিলে ভেতর থেকে প্রিয়াংকা একই রকম নিরুত্তাপ স্বরে জানান যে, স্বামী বাইরে গিয়েছেন। সন্দেহের বশে স্থানীয়দের সাহায্যে দরজা খুলতেই বেরিয়ে আসে এই নিষ্ঠুর সত্য।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের ভেতর ওই তিনজন ছাড়া আর কেউ ছিল না। বাইরের কোনও ব্যক্তি প্রবেশের কোনও প্রমাণ মেলেনি। অভিযুক্ত প্রিয়াংকা নিজেও একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। ঘটনার সময় তাঁর এই অস্বাভাবিক ও শীতল আচরণ তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে। ঠিক কী কারণে নিজের পরিবারকে এমন চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিলেন তিনি, তা জানতে এখন চলছে গভীর তদন্ত।



