বরাক তরঙ্গ, ১৫ জুলাই : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়। বুধবার সকালে উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অসমের প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইপিএস) ও বর্তমানে অসম সরকারের ফরেনসিক পরামর্শদাতা দিলীপকুমার দে। প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কিরণশশী নাগ স্মারক বক্তৃতার মূল বক্তা ছিলেন কর্ণাটক স্টেট ওপেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপিকা জ্যোতি শঙ্কর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎকান্তি পাল, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তনী, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, শিক্ষাকর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। সূচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণজ্ঞাপন বিভাগ প্রযোজিত ‘Gurucharan University: Towards Excellence’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রদীপ প্রজ্বলন, বৈদিক মঙ্গলাচরণ ও বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎ কান্তি পাল।
কিরণশশী নাগ স্মারক বক্তৃতায় অধ্যাপিকা জ্যোতি শঙ্কর কিরণশশী নাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বৈদিক যুগের ব্রহ্মবাদিনী থেকে বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ পর্যন্ত নারীর বৌদ্ধিক বিকাশ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে হবে। নারীদের সংরক্ষণের ভিত্তিতে নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা শুধু জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্র নয়; এটি মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে উৎকর্ষের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথি দিলীপকুমার দে বক্তব্যে গুরুচরণ মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তনী হিসেবে নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মা-বাবা ও শিক্ষকদের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, কর্মজীবনে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হলেও তিনি কখনও তাঁর শিক্ষকদের সম্মান জানাতে দ্বিধা করেননি।
সভাপতির ভাষণে উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয় তার গৌরবময় ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। প্রতিষ্ঠা দিবস অতীতের সাফল্য স্মরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের লক্ষ্য ও দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সুনাম অর্জন করবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় নিউজলেটারেরও আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করা হয়। নিউজলেটারটির সম্পাদক ড. মৃদুল মোহন দাস। পরে ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগের শীর্ষস্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক মেধা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পর্ব পরিচালনা করেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা ড. শ্রেষ্ঠা কর।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিত নাথ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপিকা ড. প্রদীপ্তা দেব।
মুখ্য বক্তা অধ্যাপিকা জ্যোতিশঙ্কর এবং প্রধান অতিথি দিলীপ কুমার দে-র বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন যথাক্রমে ড. স্বর্ণালী ভট্টাচার্য ও ড. বিজয়া বর্ধন। রাষ্ট্রগীত ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র সৌম্যজ্যোতি নাথের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।



