১৪ জুলাই : পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও আলিপুরদুয়ার জেলায় দুই গৃহবধূর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ শত শত কোটি টাকা ব্যালেন্স দেখানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যাঙ্ক ও প্রশাসনের ধারণা, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সার্ভার সমস্যার কারণেই এই অস্বাভাবিক ব্যালেন্স প্রদর্শিত হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার কালিকাপুর গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দা সেরিফা খাতুন সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার শাখায় ৩ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন, তার অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৭,৫৯৬,৯৫১,৯৫১.১৬ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৭৬০ কোটি টাকা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তামিলনাড়ুতে কর্মরত তার দেওর তার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। সেই টাকা তুলতেই তিনি এই অস্বাভাবিক ব্যালেন্স দেখতে পান। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সদস্যরা ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। হঠাৎ অ্যাকাউন্টে এত বিপুল অর্থ দেখে সেরিফা খাতুন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লালগোলা থানায় জানান।
ঘটনার পর পুলিশ ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে এখনও পর্যন্ত ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
একই দিনে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের উত্তর ধুলাগাঁও গ্রামেও একই ধরনের ঘটনা সামনে আসে। সরকারি প্রকল্পের অর্থ জমা হয়েছে কি না তা জানতে ব্যাঙ্কে গিয়ে হিসাবের বিবরণী নেন স্বপ্না বর্মন। সেখানে তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৪০ কোটি টাকা ব্যালেন্স দেখানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার সঙ্গে কথা বলে এবং পুনরায় ব্যালেন্স যাচাই করার পরামর্শ দেয়। পরে আবার ব্যালেন্স পরীক্ষা করলে দেখা যায়, আগের মতোই তার অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ২০২ টাকা।
স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাঙ্ক সূত্রের প্রাথমিক অনুমান, দুটি ঘটনাই প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে ভুল ব্যালেন্স প্রদর্শনের ফল।



