মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৩ জুলাই : করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তাক আহমদকে শোকজ নোটিশ জারি করেছে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (এপিসিসি)। সোমবার জারি হওয়া এই নোটিশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এপিসিসির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) রমান্না বরুয়া স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়েছে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈর নজরে এসেছে যে মোস্তাক আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে আসছেন এবং বিভিন্ন দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তিনি ভিত্তিহীন অভিযোগ ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন। অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রদেশ সভাপতির নির্দেশে তাঁকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এপিসিসি মোস্তাক আহমেদকে চার দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত ব্যাখ্যা না মিললে দলীয় সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।

নোটিশের অনুলিপি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন), অসম প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব, বিরোধী দলনেতা, প্রদেশ কংগ্রেসের অন্যান্য সাধারণ সম্পাদক, শ্রীভূমি জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি এবং দলের মিডিয়া বিভাগের কাছেও পাঠানো হয়েছে। যদিও নোটিশে নির্দিষ্ট কোনও ঘটনার উল্লেখ করা হয়নি, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলা কংগ্রেসে চলমান সাংগঠনিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিকে, মোস্তাক আহমদের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। এখন তাঁর জবাব এবং তার ভিত্তিতে এপিসিসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



