২০ জেলায় প্লাবন, নদীভাঙনে বিপর্যস্ত হাজারো পরিবার

Spread the news

১০ জুলাই : আষাঢ়ের টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর জল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের অন্তত ২০টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর জল বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে জলে তলিয়ে গেছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর বিভিন্ন নিচু এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজানের ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর জল আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীর চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে। উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি ধরলা ও দুধকুমার নদীর জল বৃদ্ধিতে কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী এলাকাও বন্যাকবলিত হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে ১০ লাখ টাকা এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল, আর বাকি ৬০ জেলায় ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *