মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুলাই : পাথারকান্দির বহুল আলোচিত মব ভায়োলেন্সের ঘটনায় গুরুতর আহত দুই যুবক দীর্ঘ চিকিৎসার পর অবশেষে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (জিএমসিএইচ) থেকে ছাড়া পেয়েছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁদের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের ডিসচার্জ দেয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় আলগাপুর-কাটলিছড়ার বিধায়ক জুবের এনাম উপস্থিত থেকে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। পাশাপাশি তাঁদের নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা করেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন আহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, চিকিৎসাকালীন সময়ে বিধায়ক জুবের এনাম ও তাঁর সহযোগী দল গুয়াহাটিতে থেকে আহতদের চিকিৎসা, ওষুধ, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন। যাতে পরিবারের সদস্যদের কোনো ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়।
বিধায়ক জুবের এনাম বলেন, মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকা একজন জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আহত দুই যুবক চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তাঁদের চিকিৎসা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত ফলো-আপ, ওষুধ সেবন এবং বিশ্রামে থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, পাথারকান্দির মব ভায়োলেন্সের ঘটনায় গুরুতর আহত দুই যুবককে প্রথমে শ্রীভূমি সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তাঁদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সোমবার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আহতদের সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার খবরে পাথারকান্দি ও আলগাপুর এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা কামনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।



