বিশ্বজিৎ আচার্য, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২ জুলাই : সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের দ্রুত ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয়, জবাবদিহিতা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার উপর জোর দিলেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, বরাক উপত্যকা উন্নয়ন ও পার্বত্য এলাকা উন্নয়নমন্ত্রী তথা কাছাড়ের অভিভাবক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল এবং খাদ্য, গণবণ্টন ও ভোক্তা বিষয়ক, গৃহ ও নগর উন্নয়ন এবং সমবায়মন্ত্রী কৌশিক রায়।
বৃহস্পতিবার শিলচরের জেলা আয়ুক্তের নবনির্মিত সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কাছাড় জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের উন্নয়ন পর্যালোচনা বৈঠকে জেলার চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্প, পানীয় জল, স্যানিটেশন, সড়ক পরিকাঠামো, বন্যা প্রতিরোধ, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা প্রকল্পগুলির বর্তমান অবস্থা, সমস্যা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেন।
বৈঠকে কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, শুধুমাত্র প্রকল্প গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়, তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি দফতরকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করারও নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, কাছাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে জেলার প্রবেশপথে ওভারলোড যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জেলা পরিবহণ দফতর, পুলিশ, অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত, সহকারী আয়ুক্তসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই টাস্ক ফোর্স নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
এছাড়া জাতীয় সড়কের ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রাঙ্গিরখাড়ি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের কাজ শুক্রবার থেকে শুরু হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন দুই মন্ত্রী।
বর্ষাকালকে সামনে রেখে জেলার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত মেরামত, পাম্পসেট সচল রাখা, স্লুইস গেট কার্যকর রাখা এবং জলনিকাশ ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দুই মন্ত্রীই দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কার, পানীয় জল সরবরাহ, স্যানিটেশন, গ্রামীণ ও শহুরে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিভাবক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল জানান, শিলচরের রাস্তাঘাট, উড়ালপুল, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে মেডিকেল পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায়, রাজদীপ গোয়ালা, কিশোর নাথ, কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, অমিয়কান্তি দাস, আমিনুল হক লস্কর, জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।



