মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১ জুলাই : নিট (NEET) পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ফলাফল নিয়ে বিতর্ক এবং পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে চলা প্রতিবাদের আবহে এবার করিমগঞ্জেও বিক্ষোভে সামিল হলো জেলা কংগ্রেস ও এনএসইউআই। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার জেলা কংগ্রেস কার্যালয় ‘ইন্দিরা ভবন’-সংলগ্ন ব্রিজ রোডে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ-ধরনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে কংগ্রেস ও এনএসইউআইয়ের নেতা-কর্মী, ছাত্র-ছাত্রী এবং সমর্থকেরা অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাপস পুরকায়স্থ অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থা বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যর্থতার ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, “দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
তাপস পুরকায়স্থ আরও দাবি করেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রথম থেকেই নিট-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেসের গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলবে। জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমদ চৌধুরী বলেন, নিট-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। তিনি দোষীদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং বার্ষিক পরীক্ষা ও সরকারি নিয়োগের স্বচ্ছ ক্যালেন্ডার চালুর দাবি জানান।
অন্যান্য বক্তারাও বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
দুই ঘণ্টাব্যাপী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির শেষে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা করেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে জেলা থেকে রাজ্য এবং জাতীয় স্তর পর্যন্ত ধারাবাহিক গণআন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রদীপ কুরি, শুভঙ্কর দাস, জ্যোতিষ পুরকায়স্থ, ধ্রুবজ্যোতি দাস, নবেন্দু শর্মা পুরকায়স্থ, টিনা সেন, ভিকি কুরি, শুভম দাস, রুচিকা পুরকায়স্থ, আফজল হোসেন, অনুরাগ দত্ত, শুভজিৎ চক্রবর্তী, সুস্মিত দেব অহিরঞ্জন দে, রানা আচার্যসহ কংগ্রেস ও এনএসইউআইয়ের একাধিক নেতা-কর্মী।



