বরাক তরঙ্গ, ৩০ জুন : অসমের পরিকাঠামোহীন কলেজগুলিতে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি কোর্স চালুর ফলে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের দাবিতে মঙ্গলবার ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকপত্র জমা দিল এআইডিএসও’র আসাম রাজ্য কাউন্সিল।
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি হিল্লোল ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চার দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলির মধ্যে ছিল—তিন বছরের স্নাতক কোর্সে নির্দিষ্ট বিষয়ে মেজর সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটে মেজরসহ উত্তীর্ণের উল্লেখ, তিন বছরের স্নাতক সম্পন্নকারী সকল শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত স্নাতকোত্তর আসনের ব্যবস্থা, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পূর্বের ন্যায় তিন বছরের স্নাতক কোর্স পুনরায় চালু করা এবং চার বছরের ডিগ্রি কোর্সকে বাধ্যতামূলক না রেখে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঐচ্ছিক কোর্স হিসেবে চালুর দাবি জানানো হয়।
স্মারকপত্র গ্রহণের পর উপাচার্য ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন। তিনি জানান, ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই মেজর সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটে সেই উল্লেখ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, শিক্ষক নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন নয়; এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।
এআইডিএসও প্রতিনিধিরা বলেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও পরিকাঠামো ছাড়া চার বছরের ডিগ্রি কোর্স কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। শুধু নতুন পাঠ্যক্রম তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর জবাবে উপাচার্য জানান, বিভিন্ন কলেজের সঙ্গে আলোচনা করে একাডেমিক স্তরে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী কলেজগুলির মধ্যে সমন্বয় করে শিক্ষাদানের ব্যবস্থাও করা হবে।

তবে ছাত্র প্রতিনিধিরা এই ব্যবস্থাকে অস্থায়ী সমাধান বলে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্বার্থ কতটা রক্ষা পাবে। তাদের অভিযোগ, চার বছরের ডিগ্রি কোর্স চালুর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার বেসরকারিকরণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সরকারি বিনিয়োগ ও শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া সরকারি কলেজগুলিতে এই কোর্স বাস্তবায়ন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। অন্যদিকে বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অর্থের বিনিময়ে এই কোর্স পরিচালনা করবে, যার ফলে ভবিষ্যতে ধনী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ছাত্র ও শিক্ষা-বিরোধী নীতি পরিহারের দাবি জানিয়ে এআইডিএসও রাজ্য সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।
এদিনের প্রতিনিধি দলে এআইডিএসও’র আসাম রাজ্য কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্লব রিসং, মাধুর্য গগৈ, জুন মণি মিরি, ভাইটি সুংক্রাং-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



