ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার বিমান, বুদ্ধির জোরে লোকালয় থেকে সরিয়ে নেন পাইলট কায়নাত

Spread the news

৩০ জুন : উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জে ভেঙে পড়ল বিমান। প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভেঙে পড়ে বায়ুসেনার বিমানটি। বিমানে সওয়ার ছিলেন এক মহিলা পাইলট। তিনি আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করছেন তাঁকে।

যে বিমানটি ভেঙে পড়েছে, সেটি একটি চেতক এভিয়েশন সেসনা ১৫২ বিমান। সোমবার হাইওয়ের কাছে ভেঙে পড়ে বিমানটি। দুপুর সওয়া ৩টে নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। গোটা ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ধ্বংসাবশেষের কাছে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। তখনও উদ্ধারকারী দল এসে পৌঁছয়নি। ফলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় মহিলা ওই পাইলটকে।

কিন্তু কী ভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? জানা গিয়েছে, আলিগড় থেকে আকাশে উড়েছিল বিমানটি। মাঝ আকাশে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। সেই সময় উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগান পাইলট কায়নাত কাদের খান। এভিয়েশন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মাঝ আকাশেই। ফলে দিশা হারিয়ে ফেলে বিমানটি। সেই পরিস্থিতিতে বিমানটিকে লোকালয় থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হন কায়নাত।

লোকালয়ের আকাশেই দু’-তিন বার চক্কর কাটেন কায়নাত। বিমানটিতে কোন দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত, তা পর্যবেক্ষণ করেন। এর পর ছয় লেন বিশিষ্ট নির্মীয়মান বরেলী-মথুরা হাইওয়েতে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন তিনি। কোনও প্রাণহানি যাতে না হয়, তার জন্যই ওই সিদ্ধান্ত। কিন্তু জরুরি অবতরণের সময় বিদ্যুতের তারে ধাক্কা খায় বিমানটি। এর ফলে সঠিক অবতরণ হয়নি। হাইওয়ের পাশে আছড়ে পড়ে বিমানটি।

প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফার্স্ট এইড দেওয়া হয় ওই মহিলা পাইলটকে। পরবর্তীতে আগ্রায় স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই মহিলা পাইলট। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। বহেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সত্যপ্রকাশ বিট্টু, অশোকনগর নিবাসী বান্টি জানান, আকাশে বেশ কয়েক বার চক্কর কাটে বিমানটি। বেশ নীচ দিয়েই উড়ছিল সেই সময়। বার বার টাল খাচ্ছিল। পাইলট সরিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু বিদ্যুতের তারে ধাক্কা লাগার পর রাস্তার পাশে ভেঙে পড়ে। স্থানীয়রা ছুটে যান ধ্বংসবশেষের কাছে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন এসএসপি সুশীল কুমার, সদর এসডিম সঞ্জীব কুমার, সিও আঁচল চৌহান, সিএফও আর কে তিওয়ারি।

প্রাথমিক ভাবে প্রাপ্ত তথ্য় অনুযায়ী, রোজকার মতো প্রশিক্ষণ চলছিল। সেই সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। পরে দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। উদ্ধারকার্য তদারকি করেন এবং নিরাপত্তার দিকটি খতিয়ে দেখেন। বিমানের ধ্বংসাবশেষটি সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, যাতে তথ্য়প্রমাণ বের করা যায়। ঠিক কী সমস্যা দেখা দিয়েছিল বিমানে, এখনও পর্যন্ত তা স্পষ্ট নয়। তবে যান্ত্রিক গোলযোগের তত্ত্ব উঠে আসছে। পাশাপাশি, খারাপ আবহাওয়া এবং অন্য দিকগুলিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

DGCA-র এক ডিরেক্টরেট জেনারেল জানিয়েছেন, তাঁদের তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসনও। আপাতত ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। ওই বিমান সংস্থা জানিয়েছে, আলিগড় থেকে আকাশে ওড়ার পর এক ঘণ্টা চলার মতো জ্বালানি ছিল বিমানটিতে। রাস্তা হারিয়ে কাসগঞ্জে প্রবেশ করে এবং বেশ কিছু ক্ষণ ধরে লোকেশন ধরা যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, বিমানটি ভেঙে পড়েছে।
খবর : abp আনন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *