বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুন : ধেমাজি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সিমেন নদীর বন্যার জলে সিমেনমুখ গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট জলের নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সিমেন চাপরি এলাকায় বন্যার স্রোতে চারজন ভেসে যান। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় বালিখুঁটির বাসিন্দা সুদাময়া যাদব বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, জোনাই এলাকায় বন্যার জেরে রেল যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিমেন নদীর উপর থাকা রেল সেতু ভেসে যাওয়ায় লাচিত এক্সপ্রেস আপাতত শুধু গুয়াহাটি থেকে শিলাপাথর পর্যন্ত চলবে। সেতুটি পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত মুরকংচেলেক পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এনএফ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম)-সহ সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত রেল সেতু পরিদর্শন করেছেন। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীর জল কমলেই সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

এদিকে, বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে ধেমাজিতে পৌঁছেছেন রাজ্যের মন্ত্রী সুশান্ত বুঢ়াগোহাঁই ও কেশব মহন্ত। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ফোনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ধেমাজির বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, অসম-অরুণাচল সীমান্তে টানা ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে জোনাই অঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কৃষিজমি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট এবং বহু মূল্যবান সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। বহু গবাদি পশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন বিদ্যালয় জলমগ্ন হওয়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে এবং নির্ধারিত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাহির চিলে ও বাহির জোনাই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। বাহির চিলে পঞ্চায়েতের রাভা কাঠনি, শান্তিপুর, মালভোগ, সোনোয়াল কাঠনি-সহ ৪০টিরও বেশি গ্রাম এবং বাহির জোনাই পঞ্চায়েতের রোহিতপুর দেউরী, লুহিজান, বগীনদী, অকল্যান্ড, মিলন তীর্থ, গোবিন্দপুর-সহ ৬০টিরও বেশি গ্রাম এখনও পানির নিচে রয়েছে।
এদিকে, চিলে নদীর বন্যার জলে বাহির চিলে পঞ্চায়েত এলাকায় সদ্য নির্মিত গাইড বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অকল্যান্ড গ্রাম সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শত শত পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।



